একই আগুনে একসঙ্গে বিলীন হয়ে গেল স্বপ্ন, স্মৃতি আর এক সময়ের হাসিখুশি সংসার। জায়গার অভাবে প্রথমে আলাদা আলাদা করে সৎকারের কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীর উদ্যোগেই একসঙ্গেই জ্বলে ওঠে তিনটি চিতা।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 1 February 2026 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র সতেরো দিন আগে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল হলদিয়ার মণ্ডল পরিবার। সেই ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই বালুঘাটা রোডে মুহূর্তে সব শেষ। নিয়ন্ত্রণ হারানো যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় (Haldia Road Accident) একসঙ্গে প্রাণ গেল অরূপ মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী ও কন্যার। কয়েক মুহূর্তে মুছে গেল একটি গোটা পরিবার।
হলদিয়ার শ্মশানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চোখে একই প্রশ্ন, এত শূন্যতার পর আর কীই বা থাকে! পাশাপাশি সাজানো তিনটি চিতা। একই আগুনে একসঙ্গে বিলীন হয়ে গেল স্বপ্ন, স্মৃতি আর এক সময়ের হাসিখুশি সংসার। জায়গার অভাবে প্রথমে আলাদা আলাদা করে সৎকারের কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীর উদ্যোগেই একসঙ্গেই জ্বলে ওঠে তিনটি চিতা।
ঘটনাটি ঘটে বালুঘাটা রোডে। একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বাইকে, পরে ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা মারে। তাতেই মৃত্যু হয় অরূপ মণ্ডলের পরিবারের তিন সদস্যের। এই দুর্ঘটনায় আরও আট জন আহত, তাঁরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে নবান্ন থেকে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করা হয়। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছন জেলাশাসক ইউনিস রিসিন ইসমাইল। প্রশাসনের তরফে আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে জটিলতা। অরূপ মণ্ডলের পরিবারের ক্ষেত্রে সেই আর্থিক সাহায্য নেবেন কে? সতেরো দিন আগেই পরিবারের একমাত্র ছেলের মৃত্যু হয়েছে। শনিবারের দুর্ঘটনায় চলে গিয়েছেন বাবা, মা ও মেয়ে—বৈধ দাবিদার বলতে আর কেউ নেই। প্রশাসন সূত্রে খবর, মোট ৬ লক্ষ টাকা আইনত কাকে দেওয়া হবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে ধোঁয়াশা।
হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বলেন, “রাজ্য সরকারের নির্দেশে আহতদের চিকিৎসা চলছে। মৃতদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী যিনি বৈধ দাবিদার হিসেবে চিহ্নিত হবেন, তাঁর হাতেই আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হবে।”
কিন্তু শ্মশানের ধোঁয়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসীদের কাছে এসব আইনি হিসেব আজ অর্থহীন। এক প্রবীণ বাসিন্দার কথায়, “সরকার টাকা দেবে, কিন্তু যাঁদের জন্য, তাঁরাই তো আর নেই। একটা গোটা পরিবার চলে গেল, এই শূন্যতা কি কোনও টাকায় ভরাট হয়?”