এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 1 February 2026 12:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসাধীন যুবতীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে উত্তাল হয়ে উঠল মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বর (Medinipur Medical College Hospital)। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসার গাফিলতি নয়, কর্তব্যরত এক নার্সের মারধরেই অবস্থার আরও অবনতি হয়েছিল (Allegations of assault against nurse)। সেই অভিযোগকে সামনে রেখেই হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ দেখান পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈশাখী খান নামে এক যুবতী দিন দুয়েক আগে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা দ্রুত তাঁকে সিসিইউ-তে স্থানান্তরিত করেন। মৃতার স্বামী আজিজুল খান ওরফে লাল্টুর দাবি, ভর্তি হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকেরা জানিয়ে আসছিলেন যে বৈশাখীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসা নিয়েও তাঁরা সন্তুষ্ট ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ তোলেননি পরিবারের সদস্যেরা।
কিন্তু অভিযোগের তির ঘুরে গিয়েছে কর্তব্যরত নার্সের দিকে। মৃতার পরিবারের দাবি, সিসিইউ-তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৈশাখীকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করা হয়। অভিযোগ, এক নার্স নাকি তাঁকে মারধর করেন। শুধু তা-ই নয়, রোগিণীর পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা। শেষ পর্যন্ত বৈশাখীর মৃত্যু হলে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা।
রবিবার সকালে মৃতার পরিবার হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে উত্তেজনা ছড়ায়। হাসপাতাল চত্বরে ভিড় জমতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্থানীয় কাউন্সিলর মিতালি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তাঁর উপস্থিতিতে কিছুটা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে কোনও রোগীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ না ঘটে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। মৃতার স্বামীর কথায়, “আমরা কাউকে দোষারোপ করতে চাই না। কিন্তু যা হয়েছে, তার ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, তদন্তের পর এই ঘটনায় ঠিক কী পদক্ষেপ করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।