সমীক্ষার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল চারটি অতিবিপন্ন ‘ব্ল্যাক সফটশেল টার্টল’-এর দেখা মেলা। বিশ্বনাথ বন্যপ্রাণ বিভাগের অধীনে ব্রহ্মপুত্রের মূল ধারার পশ্চিম অংশে এই কচ্ছপগুলির উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 1 February 2026 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক ও টাইগার রিজার্ভে জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার যে ক্রমেই আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে, তারই প্রমাণ মিলল সদ্য শেষ হওয়া বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায়। ভারতীয় টার্টল কনজারভেশন প্রোগ্রামের সহযোগিতায় টানা পঞ্চম বছরের মতো ব্রহ্মপুত্র নদে চালানো এই সমীক্ষার মূল লক্ষ্য ছিল জলজ সরীসৃপ, বিশেষ করে মিঠে জলের কচ্ছপ প্রজাতির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন (Survey in search of turtles in the Brahmaputra)।
সমীক্ষায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। শুধু কাজিরাঙা ল্যান্ডস্কেপেই ভারতে নথিভুক্ত ৩২ প্রজাতির মিঠে জলের কচ্ছপের মধ্যে ১৭টি প্রজাতির উপস্থিতি মিলেছে (17 species of freshwater turtles were found in Kaziranga)। কাজিরাঙা টাইগার রিজার্ভের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্রের প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চালানো পর্যবেক্ষণে নথিভুক্ত হয়েছে সাতটি প্রজাতির মোট ৯৪৫টি কচ্ছপ। এর মধ্যে ৮৭৬টি শক্ত খোলওয়ালা এবং ৬৯টি নরম খোলওয়ালা কচ্ছপ।
সমীক্ষার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল চারটি অতিবিপন্ন ‘ব্ল্যাক সফটশেল টার্টল’-এর দেখা মেলা। বিশ্বনাথ বন্যপ্রাণ বিভাগের অধীনে ব্রহ্মপুত্রের মূল ধারার পশ্চিম অংশে এই কচ্ছপগুলির উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত দক্ষিণ তীরের জলাভূমি ও কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যান এলাকাতেই এই প্রজাতির দেখা মেলে। ফলে মূল নদীপথে তাদের উপস্থিতি সংরক্ষণ প্রচেষ্টার সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কচ্ছপের পাশাপাশি সমীক্ষায় নথিভুক্ত হয়েছে ৯২ প্রজাতির পাখি। দেখা মিলেছে স্মুথ-কোটেড ওটার, গাঙ্গেয় শুশুকেরও। পাশাপাশি কাজিরাঙার গর্ব ‘বিগ ফাইভ’—বাঘ, একশৃঙ্গ গন্ডার, হাতি, বারাশিঙা ও বুনো মহিষের উপস্থিতিও ধরা পড়েছে পর্যবেক্ষণে।
কোহোরা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সমীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান মুখ্য বনপাল ও মুখ্য বন্যপ্রাণ সংরক্ষক বিনয় গুপ্ত, কাজিরাঙার ফিল্ড ডিরেক্টর সোনালি ঘোষ, ইস্টার্ন অসম ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের ডিএফও অরুণ ভিঘনেশ-সহ বন দফতরের শীর্ষ কর্তারা। তাঁদের বক্তব্যে বারবারই উঠে আসে—ব্রহ্মপুত্র ও কাজিরাঙা ল্যান্ডস্কেপের এই প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ও সংরক্ষণ উদ্যোগ আরও জোরদার করা জরুরি।