কোনারক মন্দির এলাকা ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। কখনও অতিরিক্ত দাম, কখনও নিম্নমানের পণ্য—দুটোই পর্যটকদের ভোগাচ্ছে।
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 1 February 2026 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেব দর্শনের উদ্দেশ্যে ঐতিহ্যশালী কোনারক সূর্যমন্দিরে (Konark Sun Temple) পৌঁছেছিলেন তাঁরা। ইতিহাস, শিল্প আর ধর্মীয় আবহে পুণ্যার্থীদের মন ভরে ছিল ঠিকই কিন্তু সেই পুণ্যভ্রমণই শেষ পর্যন্ত বদলে গেল প্রতারণার তিক্ত অভিজ্ঞতায়। কোনারক মন্দির চত্বরে স্থানীয় বিক্রেতার কাছ থেকে কাজুবাদাম (local cashew nutss) কিনে ঠকেছেন মহারাষ্ট্র থেকে আসা একদল পর্যটক (Tourists)।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের প্রায় ১৫ জনের একটি পর্যটক দল কোনারকে আসেন। সূর্যমন্দির দর্শনের পর আশপাশে ঘোরাঘুরি করার সময় কয়েক জন স্থানীয় বিক্রেতা তাঁদের কাজুবাদাম কেনার প্রস্তাব দেন। পর্যটকদের জানানো হয়, কাজুগুলি স্থানীয় ভাবে উৎপন্ন এবং মান অত্যন্ত ভাল। ‘খাঁটি স্থানীয় পণ্য’ বলেই দামও কিছুটা বেশি! কেজি প্রতি ৬০০ টাকা নেওয়া হয়। দেব দর্শনের আনন্দে এবং বিক্রেতাদের কথায় বিশ্বাস রেখেই কয়েক প্যাকেট কাজুবাদাম কিনে নেন তাঁরা।
কিন্তু হোটেলে ফিরে প্যাকেট খুলতেই বিপত্তি। দেখা যায়, অধিকাংশ কাজুই পোকায় ধরা। কোথাও কাজুর ভিতরটা কালচে হয়ে গিয়েছে, কোথাও আবার সম্পূর্ণ নষ্ট। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান পর্যটকেরা। তাঁদের অভিযোগ, প্যাকেটের বাইরের মোড়ক ছিল ঝকঝকে ও পরিপাটি, কিন্তু ভিতরের পণ্যের মান একেবারেই নিম্নমানের।
এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পর্যটকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, দেব দর্শনের মতো পবিত্র জায়গায় এই ধরনের প্রতারণা মোটেই কাম্য নয়। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন দফতরের নজরে আনার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার কথাও ভাবছেন, যাতে অন্য পর্যটকেরা সতর্ক থাকতে পারেন।
প্রসঙ্গত, কোনারক মন্দির এলাকা ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে শুকনো ফল, খাবারদাবার কিংবা স্মারক বিক্রির নামে পর্যটকদের প্রতারণার অভিযোগ একাধিক বার সামনে এসেছে। কখনও অতিরিক্ত দাম, কখনও নিম্নমানের পণ্য—দুটোই পর্যটকদের ভোগাচ্ছে।
পর্যটন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মহলের মতে, কয়েক জন অসাধু বিক্রেতার লোভে কোনারকের মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ঐতিহ্যস্থলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। দেব দর্শনে এসে প্রতারণার শিকার হলে পর্যটকদের মনে স্বাভাবিক ভাবেই বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই দ্রুত কড়া নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।