বাধ্য হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা। আতঙ্ক, দুঃশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তা যেন গ্রাস করেছে গোটা উত্তর চাচন্ডকে।

গঙ্গার ভাঙন।
শেষ আপডেট: 3 September 2025 17:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ভয়াল রূপে ধরা দিল গঙ্গা (Ganga River)। বুধবার সকাল ন’টার পর থেকে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের (Shamsherganj) উত্তর চাচন্ড গ্রাম গ্রাস করতে শুরু করে গঙ্গার ভাঙন।
চোখের সামনেই গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে যায় স্থানীয় বাসিন্দা জয়দেব সরকারের বাড়ির একাংশ। শুধু তাই নয়, ফাটল দেখা দিয়েছে আরও অন্তত পাঁচ থেকে সাতটি বাড়িতে। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র গ্রামজুড়ে। আতঙ্কে ভিটে মাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন গ্রামের অনেকে।
স্থানীয়রা জানান, যেকোনও মুহূর্তে আরও বেশ কিছু বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। বিপন্ন একটি মন্দিরও। বাঁধের উপর দিয়ে নির্মিত ঢালাই রাস্তার একাংশ গঙ্গায় ভেঙে পড়েছে ইতিমধ্যেই। ফলে মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। বাধ্য হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা। আতঙ্ক, দুঃশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তা যেন গ্রাস করেছে গোটা উত্তর চাচন্ডকে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন গঙ্গার জলস্তর কিছুটা কমছিল। কিন্তু আচমকাই গত তিন দিন ধরে ফের বেড়েছে নদীর জল। আর সেই জলবৃদ্ধির সঙ্গেই শুরু হয়েছে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছর ঘুরলেই গঙ্গার ভাঙন তাঁদের ঘরবাড়ি, জমিজমা, এমনকি চাষের ক্ষেতও কেড়ে নেয়। তবু প্রশাসনের তরফে স্থায়ী সমাধানের কোনও উদ্যোগই নেওয়া হয় না।
এক স্থানীয়ের কথায়, “প্রতি বছর ভিটেমাটি হারাই, কেউ খোঁজ নেয় না। শুধু আশ্বাসেই দিন কেটে যায়।” তাঁদের দাবি, গঙ্গাভাঙন রোধে বিজ্ঞানসম্মত ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সামশেরগঞ্জের বিস্তীর্ণ অংশ মানচিত্র থেকে মুছে যাবে একদিন।