১৯৫৪ সালে তিনি শুধু এলাকার ছবি বদলে দেননি, বদলে দিয়েছিলেন নামটিও। ‘আহার বেলমা’ হয়ে ওঠে ‘শ্যামসুন্দর’। তাঁর বিশ্বাস ছিল, শুধু শিক্ষায় নয়, আত্মিক উন্নয়নেও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

নাম বদলে শ্যামসুন্দর
শেষ আপডেট: 9 June 2025 19:18
একসময় ‘আহার বেলমা’ নামে পরিচিত ছিল দক্ষিণ দামোদরের প্রান্তে অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রামীণ জনপদ। শিক্ষার আলোতো ছিলই না দৈনন্দিন প্রয়োজনের বাজার, পাকা রাস্তা ছিল না এগুলিও ছিল অকল্পনীয়। এখন জমজমাট চারপাশ। গড়ে উঠেছে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, রাস্তা, আধুনিক পরিকাঠামো। কিন্তু খুব কম মানুষই জানেন, এই আমূল রূপান্তরের পেছনে ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসংস্কারক ও শিক্ষাবিদ বিশালাক্ষ বসু।
১৯৫৪ সালে তিনি শুধু এলাকার ছবি বদলে দেননি, বদলে দিয়েছিলেন নামটিও। ‘আহার বেলমা’ হয়ে ওঠে ‘শ্যামসুন্দর’। তাঁর বিশ্বাস ছিল, শুধু শিক্ষায় নয়, আত্মিক উন্নয়নেও সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই ভাবনা থেকেই প্রতিষ্ঠা করেন শ্যামসুন্দর ঠাকুরের মন্দির—যা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে এলাকার আধ্যাত্মিক ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। বিশালাক্ষ বসুর হাত ধরেই এই অঞ্চলে গড়ে ওঠে একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলেজ, সব কিছুই তাঁর পরিকল্পনার ফসল। বহু মানুষ বলেন, “যেখানে লেখাপড়ার সুযোগ ছিল না, সেখানে তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ডিগ্রি পাওয়ারও।”
সগড়াই থেকে শ্যামসুন্দর পর্যন্ত যে দীর্ঘ রাস্তা আজ এলাকার লাইফলাইন, সেই উদ্যোগও শুরু হয়েছিল তাঁর হাত ধরেই। স্কুলে পড়তে আসা ছেলেমেয়েরা যাতে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত না হয়, সেই ভাবনা থেকেই পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস ছিল, এই এলাকার উন্নতি সম্ভব শুধু শ্যামসুন্দর ঠাকুরের কৃপায়। তাই তিনি আহার বেলমার পুরনো নাম মুছে নতুন নাম দেন ‘শ্যামসুন্দর’।
বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই ‘আহার বেলমা’ নামটিই শোনেননি। নতুন প্রজন্মের কাছে এই নাম একেবারেই অচেনা। তারা শ্যামসুন্দর বাজারকেই চেনেন, জানেন, ভালোবাসেন। তবে এখনও কিছু প্রবীণ মানুষ রয়েছেন, যারা আজও বলেন, “আমরা তো বেলমাতেই বড় হয়েছি।” বিশালাক্ষ বসুর অবদানকেও পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন তাঁরা।