কলকাতায় কাজে আসা বহু ভিনরাজ্যের মানুষ নিজের মূল্যবান জিনিস কোথায় রাখবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। সেই সুযোগকেই ব্যবহার করত প্রতারকরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 February 2026 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া ও শালিমার স্টেশন চত্বরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিনব কায়দায় প্রতারণা চলছিল (Muzaffarpur gang fraud)। ট্রেন থেকে নামতেই ভিনরাজ্যের যাত্রীরা সহজেই ফাঁদে পড়েছিলেন এই গ্যাংয়ের চক্রান্তের। নিজেদের এলাকার মানুষ বলে পরিচয় দিয়ে প্রথমে বিশ্বাস যেটা, তারপর মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেওয়া- এই কৌশলেই বহু যাত্রীর সর্বস্ব লুটে (friendship trap crime) নিয়েছিল বিহারের মুজাফ্ফরপুর গ্যাং।
দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের একাধিক অভিযোগ আসছিল পুলিশের কাছে (Muzaffarpur gang fraud)। তদন্ত চলছিল। অবশেষে সেই গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করল হাওড়া থানার পুলিশ (Howrah Police arrest)। হাওড়া ময়দানের বঙ্কিম সেতুর তলা থেকে ধরা পড়ে মিথিলেশ কুমার ও সোনু কুমার মাহাতো নামে দুই অভিযুক্ত।
কীভাবে চলত প্রতারণা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুজাফ্ফরপুর গ্যাংয়ের সদস্যরা হাওড়া বা শালিমার স্টেশনে নজর রাখত ভিনরাজ্যের যাত্রীদের ওপর। বিশেষ করে মুজফ্ফরপুর বা আশপাশের জায়গা থেকে আসা যাত্রী দেখলেই তাদের কাছে গিয়ে বলত, “আমরাও মুজাফ্ফরপুরে থাকি।”
এখান থেকেই যাত্রীদের বিশ্বাস অর্জন করে ফেলত অভিযুক্তরা। এরপর যাত্রীদের বলা হত, "তোমাদের টাকা, সোনার গয়না বা মূল্যবান জিনিস আমাদের কাছে রাখলে টিটির হেফাজতে রাখলে পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকবে।"
এভাবে যাত্রীদের নিয়ে যাওয়া হত শালিমার স্টেশন (Shalimar Station) বা হাওড়া ময়দানের (Howrah Maidan) কাছে। সেখানে ভুয়ো টিটি অফিস দেখিয়ে ভুয়ো চালান কেটে নেওয়া হত জিনিসপত্র। এরপরই উধাও হয়ে যেত গ্যাংয়ের সদস্যরা। যাত্রীরা বুঝতে পারতেন, তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছে, কিন্তু ততক্ষণে আর কিছুই করার থাকে না।
কলকাতায় কাজে আসা বহু ভিনরাজ্যের মানুষ নিজের মূল্যবান জিনিস কোথায় রাখবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। সেই সুযোগকেই ব্যবহার করত প্রতারকরা। ফলে সহজেই যাত্রীরা তাদের হাতে গয়না, টাকা, মোবাইল বা মূল্যবান সামগ্রী তুলে দিতেন।
গত বছর থেকেই হাওড়া থানায় এমন অভিযোগ জমা পড়ছিল। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং আগেই মুজফ্ফরপুর থেকে গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এবার নতুন করে গ্রেফতার হল আরও দু'জন।