অভিযোগ, বহুদিন ধরেই আবাসনের ছাদ ও দেওয়ালে ফাটল দেখা যাচ্ছিল। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও সংস্কারের কাজ হয়নি। ফলে প্রশাসনিক উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন অনেকে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 March 2026 13:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোয়ার্টারের অব্যবস্থা ও গাফিলতির কারণে প্রাণ গেল চার মাসের এক শিশুর (Four Months Old child death)। আবাসনের ছাদের চাঙর ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে কেতুগ্রামের (Ketugram) ওই শিশুর। শুক্রবার ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া, পাশাপাশি উঠেছে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ।
গতকাল কেতুগ্রাম ব্লক হাসপাতালের কর্মী আবাসনে ছিলেন ফার্মাসিস্ট শানু বেসরা ও তাঁর স্ত্রী শিবানী সোরেন। তাঁদের চার মাসের কন্যা মেঝেতেই ঘুমোচ্ছিল। বাবা-মা মেয়ের পাশেই ছিলেন। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, ঠিক সেই সময়ই আচমকা ছাদের বড় অংশ ভেঙে শিশুটির উপর পড়ে। সবাই হতভম্ব হয়ে যায় মুহূর্তে। শিশুকে দ্রুত উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে তার শরীরে।
শিশুটির মা শিবানী সোরেন অভিযোগ করেন, “আবাসনের ঘরগুলো খুবই খারাপ অবস্থায়। বহুবার বলেছি মেরামতের জন্য। যদি ঠিকমতো দেখভাল করা হত, আজ আমার মেয়ের জীবনটা যেত না। আমরা স্বাস্থ্যকর্মী হয়েও নিরাপদে থাকতে পারি না, হলে কীভাবে অন্যকে পরিষেবা দেব?”
শানু বেসরা কেতুগ্রাম ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট। শিবানী কাটোয়া পুরসভার অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মী। তাঁদের দাবি, আবাসনের অবস্থা বিপজ্জনক জেনেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি।
ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য দফতর। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তারা জানিয়েছে, “এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত শুরু হয়েছে। বি এম ও এইচ-এর কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। আবাসনের অবস্থা ঠিক করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বহুদিন ধরেই আবাসনের ছাদ ও দেওয়ালে ফাটল দেখা যাচ্ছিল। বারবার অভিযোগ জানানো হলেও কোনও সংস্কারের কাজ হয়নি। ফলে প্রশাসনিক উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন অনেকে।