এ রাজ্যে শিল্পায়ন বা আধুনিক শিল্প-পরিকাঠামো গড়া নিয়ে ফের প্রশ্নচিহ্ন আঁকছে জমি-জট। সেই জট কাটাতে পারলে কত ভাল যে হতে পারত তা সম্ভাবনার ছবিটা দেখলেই বোঝা যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেইলের (GAIL) প্রাকৃতিক গ্যাসের (natural gas) পাইপলাইনটি দ্বিতীয় অংশ তৈরি হয়ে গেলে হয়তো জ্বালানির সমস্যারও কিছুটা সুরাহা হত।

শেষ আপডেট: 27 March 2026 20:10
এ রাজ্যে শিল্পায়ন বা আধুনিক শিল্প-পরিকাঠামো গড়া নিয়ে ফের প্রশ্নচিহ্ন আঁকছে জমি-জট। সেই জট কাটাতে পারলে কত ভাল যে হতে পারত তা সম্ভাবনার ছবিটা দেখলেই বোঝা যাবে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেইলের (GAIL) প্রাকৃতিক গ্যাসের (natural gas) পাইপলাইনটি দ্বিতীয় অংশ তৈরি হয়ে গেলে হয়তো জ্বালানির সমস্যারও কিছুটা সুরাহা হত। কারণ হাতে বিকল্প থাকত। এবং রান্নার গ্যাসের (এলপিজি, LPG) জোগান সঙ্কট অল্প হলেও কমানো যেত বলে মনে করছেন অনেকেই।
অথচ এই অংশের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে কাজটি ছিল, তা হয়ে গেছে আগেই। রূপনারায়ণ নদীর তলা দিয়ে প্রায় ২.৭ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর কাজটি সম্পূর্ণ হয়েছিল ২০২৪ সালে। অর্থাৎ দেড় বছর আগে।
ইরান যুদ্ধের জেরে হঠাৎ করেই ভারতে রান্নার জ্বালানী হিসাবে পাইপে বাড়ি কিংবা হোটেল-রেস্তরাঁয় প্রাকৃতিক গ্যাস (পিএনজি, piped natural gas/PNG) জোগান নিয়ে চর্চা বেড়েছে। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। গেইল যে পাইপলাইন বসাতে তার ডেডলাইন অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। প্রথম অংশের কাজও বার বার ধাক্কা খেয়েছে।
কিন্তু সেটির দ্বিতীয় অংশ অর্থাৎ হুগলির রাজারামবাটি থেকে হলদিয়ায় ইন্ডিয়ান অয়েলের শোধনাগার পর্যন্ত যে বাকি পাইপলাইন (১৬২) তৈরির কথা রয়েছে, সেটি এই মার্চ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল গেইল-এর। কিন্তু সূত্রের খবর, হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গা মিলিয়ে মাত্র ২০ কিলোমিটার জমি জটের জন্য পুরো পাইপলাইনটি তৈরি করা যাচ্ছে না।
দক্ষিণবঙ্গে গেইলের পাইপলাইনের এই দুটি অংশে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় ছিল গঙ্গা ও রূপনারায়ণ নদীর নীচে দিয়ে পাইপলাইন বসানো। প্রথমটি শেষ হয় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। রূপনারায়ণের নীচে পাইপ বসে ২০২৪ সালে অক্টোবরে। হুগলির রাজারামবাটি থেকে হলদিয়ার মধ্যে গেইলের সাতটি গ্যাস বণ্টন কেন্দ্র বসার কথা। যেখানে থেকে আবার ছোট পাইপে করে বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি ও পিএনজি সরবরাহ করা হবে। এ যেন বরাত কিছু সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছে।
উদ্বেগের বিষয় হল, গেইলের বড় পাইপলাইন বসানো শুধু ধাক্কা খায়নি, ছোট পাইপলাইন বসানোর কাজও পুরসভা স্তরে বহু জায়গায় ধাক্কা খাচ্ছে। কোথাও জমি নিয়ে সমস্যা তো কোথাও পুরসভার ফাইলের জট। যেমন কলকাতায় ছোট পাইপলাইন তৈরি বা বসানো শুরুই করা যায়নি।
রাজ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস জোগানের বিষয়টি বহু পুরোনা। ২০০৫ সালে এ নিয়ে গেইলের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তারপর বিষয়টি কিছুটা এগোয়। পালাবদলের পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এ নিয়ে তৎপর হন। রাজ্যে গেইলের মোট তিনটি পাইপলাইন থেকে গ্যাস আসার কথা।
দেশ জুড়ে বিভিন্ন রাজ্যে এই পরিকাঠামো গড়ার প্রকল্পটি হল উর্জা গঙ্গা প্রকল্প। গেইলের মূল পাইপলাইন থেকে ওই গ্যাস নিয়ে পিএনজি এবং সিএনজি (গাড়ির বিকল্প জ্বালানী) হিসাবে বিক্রি করতে আবার গ্যাস বণ্টন পরিকাঠামো (সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন বা সিজিডি) গড়ার কথা বিভিন্ন সংস্থার (সিজিডিএ, CGDA)। কোন এলাকায় কোন সংস্থা সেই গ্যাস বণ্টন বা বিক্রির বরাত পাবে তার অনুমোদন দেয় পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচরাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ড। এ রাজ্যের বরাত পাওয়া সংস্থাগুলি হল – বেঙ্গল গ্যাস (গেইল ও গ্রেটার ক্যালকাটা গ্যাস সাপ্লাই কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগ), ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, ভারত পেট্রোলিয়াম, আইওএজিপিএল (ইন্ডিয়ান অয়েল আর আদানি গ্যাসের যৌথ উদ্যোগ)। এখন দেখার, অন্তত গেল কি জুনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে? নাকি সেটাও আবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে?