সরকারি বিজ্ঞাপনের প্রতিবাদ করায় নির্বাচন কমিশনের এক কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেছেন বিডিও অফিসের কর্মীরা। ঘটনার প্রতিবাদে প্রশিক্ষণ বয়কট করে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন কয়েকশো ভোটকর্মী।

আক্রান্ত কর্মী
শেষ আপডেট: 27 March 2026 20:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের নির্ঘণ্ট (West Bengal Assembly Election 2026) ঘোষণা হয়ে গিয়েছে, জারি রয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। এই পরিস্থিতিতে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবিরেই প্রজেক্টরে মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) ছবি-সহ সরকারি বিজ্ঞাপন দেখানো নিয়ে তুলকালাম বাধল নদিয়ায় (Nadia)। শুক্রবার সকালে রানাঘাট ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ স্কুলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, সরকারি বিজ্ঞাপনের প্রতিবাদ করায় নির্বাচন কমিশনের এক কর্মীকে বেধড়ক মারধর করেছেন বিডিও অফিসের কর্মীরা। যার প্রতিবাদে প্রশিক্ষণ বয়কট করে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন কয়েকশো ভোটকর্মী। এই ঘটনায় বিডিও-কে শোকজ করল কমিশন।
ঠিক কী ঘটেছিল?
এ দিন ওই স্কুলে বিধানসভা নির্বাচনের ডিউটিতে থাকা কর্মীদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই হলঘরের বড় পর্দায় বা প্রজেক্টরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জগন্নাথ মন্দির সংক্রান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞাপন ভেসে ওঠে। নির্বাচনী বিধি বলবৎ থাকাকালীন কেন সরকারি প্রচার চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে তৎক্ষণাৎ সরব হন সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে এক ভোটকর্মী। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন আরও বেশ কয়েকজন সহকর্মী।
সৈকতের অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই রানাঘাট ১ নম্বর বিডিও অফিসের কয়েকজন কর্মী তাঁর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিডিও অফিসের কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ। আক্রান্ত ভোটকর্মীর প্রশ্ন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই আমি আপত্তি জানিয়েছিলাম। অথচ খোদ কমিশনের ট্রেনিং সেন্টারেই যদি ভোটকর্মীরা সুরক্ষিত না থাকেন, তবে ভোটের দিন বুথে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?”
বিক্ষোভ ও প্রশাসনিক তৎপরতা
সহকর্মীকে মারধরের খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অন্য ভোটকর্মীরা। ট্রেনিং বন্ধ করে দিয়ে স্কুল চত্বরেই তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুরো ঘটনার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে সরব হয়েছেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার (Jagannath Sarkar)। তিনি বলেন, “ভোটকর্মীদের ওপর এই আক্রমণ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ ভোট চায় না। কমিশনকে অবিলম্বে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে।”
নির্বাচনী বিধিভঙ্গের এই অভিযোগ এবং ভোটকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় শুক্রবার সারাদিনই থমথমে ছিল রানাঘাট। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চললেও, নিরাপত্তার দাবিতে অনড় আন্দোলনকারী ভোটকর্মীরা।