রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দ্রুত সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতিরই প্রমাণ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 March 2026 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে ফের রাজ্যে গণধর্ষণের অভিযোগ এবং অভিযুক্ত শাসক দলের কর্মীরা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুরে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের (Harirampur Incident) অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, স্বামীকে পুলিশে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরই বাড়িতে ঢুকে ওই মহিলার উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা এবং পরে তাঁকে গণধর্ষণ করা হয়। ঘটনার জেরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। স্থানীয় সূত্রে খবর, সম্প্রতি ওই মহিলা নতুন বাড়ি তৈরি করেছিলেন। সেই বাড়ি নির্মাণ নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার রাতে প্রতিবেশীরা থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ ওই মহিলার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপরই কয়েকজন দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে মহিলাকে মারধর করে এবং তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দ্রুত সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতিরই প্রমাণ। সুকান্তর দাবি, অভিযুক্তরা জোর করে মহিলার বাড়িতে ঢুকে প্রথমে তাঁর স্বামীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর লোহার রড দিয়ে মারধর করে তাঁর উপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয় এবং তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। তাঁর এও অভিযোগ, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, মহিলারা নিজেদের বাড়িতেও আর নিরাপদ নন।
This incident stands as yet another grim example of the brutal erosion of the rule of law in West Bengal under the regime of Mamata Banerjee.
In the Harirampur area of Dakshin Dinajpur district, an woman was allegedly gang-raped by some miscreants. According to her allegations,… pic.twitter.com/zcxOUXODQ1— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) March 26, 2026
অন্যদিকে নির্যাতিতার দাবি, অভিযুক্তরা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী বা সমর্থক। তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে সাহায্য করেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি গোপাল দেব। পুলিশ সুপারের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে এই ঘটনার সত্যতা এবং সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের দাবি, ঘটনাটি ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। অভিযোগপত্রে ঘটনার সময় নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি তাদের। সব মিলিয়ে গুরুতর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিতর্কও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।