শুক্রবার নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় নদীর জলস্তর কিছুটা নেমেছে। শনিবারও বৃষ্টি হয়নি। তবে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী রবিবার থেকে ফের অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ডিভিসি ফের জল ছাড়লে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গড়বেতায় বন্যা পরিস্থিতি।
শেষ আপডেট: 21 June 2025 09:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা বৃষ্টি এবং ডিভিসির ছাড়া জলে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে (Flood situation in South Bengal)। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা-ঘাটাল, হুগলির আরামবাগ-গোঘাট এবং হাওড়া ও বাঁকুড়ার একাংশও প্লাবিত।
পরিস্থিতির মোকাবিলায় ইতিমধ্যে প্রশাসনের তরফে খোলা হয়েছে একাধিক ত্রাণ শিবির। সেখানে রাখা হয়েছে দুর্গতদের। বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় শুক্রবারই নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে সংশ্লিষ্ট জেলার মন্ত্রীদের বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রের খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরে মানস ভুঁইয়া, বাকুড়া-পুরুলিয়ায় মন্ত্রী মলয় ঘটক এবং হুগলির আরামবাগ, গোঘাটের জন্য ফিরহাদ হাকিমকে নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার টানা বৃষ্টিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল এবং গড়বেতায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভৌগলিক দিক থেকে ঘাটাল এলাকাটি অনেকটা গামলার মতো। ফলে জল বেরোতে সমস্যা হয়। সমস্যার সমাধানে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। তারই মধ্যে অতি বৃষ্টিতে প্লাবিত এলাকা।
প্লাবিত গড়বেতা-১ ব্লকের ১০টি এবং গড়বেতা-২ ব্লকের চারটি অঞ্চলও। আগড়া, ধাদিকা, খরকুশমা, বড়মুড়া, সন্ধিপুর, গরঙ্গা, পিয়াশালা, জোগাড়ডাঙা, সারবত, আমলাশুলি এলাকার মানুষজনকে উদ্ধার করে ত্রাণ শিবিরে আনা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে ২১টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ রয়েছেন। এলাকার প্রবীণ মানুষের মতে, এর আগে ১৯৭৮ সালে এরকম বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতির জন্য ডিভিসির ছাড়া জলকেই দুষছেন তাঁরা। প্রশাসনের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, দুর্গতদের ত্রাণ শিবিরে আনা হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
শুক্রবার নতুন করে বৃষ্টি না হওয়ায় নদীর জলস্তর কিছুটা নেমেছে। শনিবারও বৃষ্টি হয়নি। তবে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী রবিবার থেকে ফের অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ডিভিসি ফের জল ছাড়লে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রের খবর, মন্ত্রীদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদেরও নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও তিনি নিজেও প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।
হাওড়ার আমতা-২ নম্বর ব্লকেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, শুক্রবার জলের তোড়ে আমতা-২ ব্লকের গায়েনপাড়া এবং কুলিয়ায় দুটি বাঁশের সাঁকো ভেসে গিয়েছে। ফলে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে ভাটোরা দীপাঞ্চল। যোগাযোগের ভরসা বলতে ফেরি সার্ভিস। কিন্তু নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় আপাতত তা বন্ধ রাখা হয়েছে।
হুগলির আরামবাগ-বদনগঞ্জ,কামারপুকুর ও জয়রামবাটির একাংশ এলাকায় প্লাবিত। তুলনামূলকভাবে বৃহস্পতিবারের পর থেকে বাঁকুড়ার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে নতুন করে বৃষ্টি হলে এবং ডিভিসি জল ছাড়লে আবার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। টানা বৃষ্টির জেরে সামগ্রিকভাবে ক্ষতি হয়েছে চাষেরও।