কমিশন সূত্রের ব্যাখ্যায়, নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডারে কিছু অসঙ্গতি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এ রাজ্যের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন করতে গিয়ে যে পরিমাণ তথ্যের গরমিল পাওয়া যাচ্ছে তার মাত্রা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

সিইও মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 12 December 2025 19:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (West Bengal SIR) কাজের প্রথম পর্যায় অর্থাৎ এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) জমা দেওয়ার কাজ শেষ হয়েছে ১১ তারিখ। তারপর জমা পড়া সব তথ্য খতিয়ে জানা গেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ গরমিল। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ ডেটা বিশ্লেষণের পর দেখা যাচ্ছে ভোটার রেকর্ডে ৭ ধরনের বড় তর্কগত অসামঞ্জস্য বা Logical Discrepancy রয়েছে, যেগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য ডিইও-দের বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
কমিশন সূত্রের ব্যাখ্যায়, নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডারে কিছু অসঙ্গতি থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এ রাজ্যের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন করতে গিয়ে যে পরিমাণ তথ্যের গরমিল পাওয়া যাচ্ছে তার মাত্রা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
বাবা ও সন্তানের বয়সের ফারাক ১৫ বছরের কম
ফিল-আপ করা ফর্ম বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এমন তথ্য সামনে এসেছে যা শুধু চমকপ্রদই নয়, একপ্রকার অসম্ভব। মা-বাবা ও সন্তানের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম। অর্থাৎ সন্তানের বয়স আর বাবা-মায়ের বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর।
দেশের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নীচে বিবাহ আইনসিদ্ধ নয়। সেক্ষেত্রে ১৫ বছর বা তার কম বয়সে বাবা-মা হওয়টা তো একপ্রকার অসম্ভব। কমিশন মনে করছে বিষয়টি অসম্ভব হলেও দুই একটি ক্ষেত্রে হয়তো তা বাস্তব। কিন্তু এই ধরনের প্রায় ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩১ টি ফর্ম পাওয়া গিয়েছে। যা একপ্রকার অসম্ভব।
বাবার নাম মিলছে না
আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য হলো প্রায় ৮৫ লক্ষের ফর্ম পাওয়া গিয়েছে যেখানে বাবার নামেই মিল নেই। প্রকৃত সংখ্যাটি হল প্রায় ৮৫,০১,৪৮৬ (১১.০৯%) যেখানে ভোটারের নথিতে বাবার নাম মিলছে না।
এক পরিবারে ৬ জন সন্তান
তৃতীয় যে তথ্য কমিশনকে ভাবাচ্ছে সেটা হল তালিকায় এমন পরিবারের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে যেখানে ৬ জন বা তার বেশি সন্তান রয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণের সময় প্রায় ২৪,২১,১৩৩ (৩.১৬%) গুলো ফর্ম পাওয়া গিয়েছে যেখানে এমন অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কমিশনের মতে, এর বড় অংশই সম্ভবত ভুল এন্ট্রি বা পুরোনো রেকর্ডের জন্য হয়েছে।
এছাড়াও বয়স সংক্রান্ত আরও যেসব অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছে সেগুলি হল-
বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক
বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক ৫০ বছর বা তার বেশি। এমন মোট ৮,৭৭,৭৩৬ (১.১৫%) গুলো ফর্ম জমা পড়েছে।
দাদু-দিদার সঙ্গে নাতি-নাতনির বয়সের ফারাক
দাদু-দিদার সঙ্গে নাতি-নাতনির বয়সের ফারাক মাত্র ৪০ বছর বা তার কম। এমন ফর্ম জমা পড়েছে ৩,২৯,১৫২ (০.৪৩%) টি।
৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সে প্রথম ভোটার কার্ডে নাম তোলা
৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সে প্রথম ভোটার কার্ডে নাম তোলা। এমন প্রায় ২০,৭৪,২৫৬ টি ফর্ম জমা পড়েছে যেখানে ভোটার তালিকায় প্রথমবার নাম তোলার আবেদন করা হয়েছে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সে।
লিঙ্গ নির্ধারণে ভুল
আর ৭ নম্বর গড়মিল হল লিঙ্গ নির্ধারণে ভুল। এমন মোট ১৩,৪৬,৯১৮ টি ফর্ম জমা পড়েছে যেখানে পুরুষ না মহিলা সেটা সঠিক বোঝা যাচ্ছে না
কমিশনের মতে, এগুলোর বড় অংশই তথ্যভুল বা এন্ট্রি ভুল হওয়ার ফল। ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল এবং স্বচ্ছ করতে এইসব বিষয়গুলো নিয়ে জেলাভিত্তিক বিশেষ দল যাচাই করবে।