শেষ পর্যন্ত বাবাকে ঘরে রেখে, চোখের জল মুছেই সে রওনা দেয় পরীক্ষা কেন্দ্রে। মোটরবাইকে করে তাকে নিয়ে যান জামাইবাবু অনুপ আদক। মধুমিতা পরীক্ষা দিতে ঢোকার পরই শুরু হয় বাবার শেষকৃত্য।

মধুমিতা কর।
শেষ আপডেট: 3 February 2026 19:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোরের অন্ধকার তখনও কাটেনি। বাড়ির উঠোন জুড়ে শুধু কান্নার শব্দ। মাধ্যমিকের (Secondary Examination) প্রথম পরীক্ষার দিনেই জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হল পশ্চিম মেদিনীপুরের সারতা গ্রামের মেয়ে মধুমিতা করকে (Madhumita Kar)।
চোখ মেলে জানতে পারে—বাবা আর নেই (Father Death)। রাত পেরোনোর আগেই চিরবিদায় নিয়েছেন বাদলচন্দ্র কর। ফলে পরীক্ষার কথা ভুলে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল সে-ও। তবে শোকের সেই মুহূর্তেই পরিবারের বড়রা মধুমিতার ভবিষ্যতের কথা ভাবেন। বোঝান—মাধ্যমিক শুধু পরীক্ষা নয়, আগামী দিনের পথচিহ্ন।
বাদলচন্দ্র কর দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। বয়স প্রায় সত্তরের কাছাকাছি। সুগার, কিডনির সমস্যা, তার উপর পায়ে চোট—সব মিলিয়ে শরীর ভেঙে পড়েছিল। রবিবার রাতেই বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভোরে ছুটে আসেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীরা।
খবর পেয়ে মধুমিতার স্কুল সারতা তারকানাথ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক অজয় বর্মন নিজে এসে হাজির হন তার বাড়িতে। শোকের ভারে নুয়ে পড়া মেয়েটিকে তিনি সাহস জোগান। বলেন, আজ না বসলে একটি বছর হারাবে। গ্রামীণ পরিবেশে থেকেও যে মেয়েটি এতদূর এসেছে, তার এই লড়াই থেমে যাওয়া উচিত নয়। শিক্ষক, পরিবার, প্রতিবেশী—সবার কথাতেই ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে ওঠে মধুমিতা।
শেষ পর্যন্ত বাবাকে ঘরে রেখে, চোখের জল মুছেই সে রওনা দেয় পরীক্ষা কেন্দ্রে। মোটরবাইকে করে তাকে নিয়ে যান জামাইবাবু অনুপ আদক। মধুমিতা পরীক্ষা দিতে ঢোকার পরই শুরু হয় বাবার শেষকৃত্য।
পরীক্ষা কেন্দ্র দশগ্রাম সতীশচন্দ্র সর্বার্থসাধক শিক্ষাসদনেও খবর পৌঁছয়। শিক্ষকরাও বিশেষভাবে নজর রাখেন মেয়েটির দিকে। পরীক্ষা শুরুর আগে পাশে গিয়ে কথা বলেন, মানসিক জোর দেন।
পরীক্ষা শেষ করে বেরিয়ে এসে মধুমিতা শুধু বলেছিল, “বাবাকে ছেড়ে আসতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু সবাই বলেছিল, আমাকে পারতেই হবে। পরীক্ষা ভাল হয়েছে। বাকি পরীক্ষাগুলোও দেব।”