শুভেন্দুর দাবি, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও যাঁরা দলের অনুগত, তাঁদেরই পুরস্কৃত করার সংস্কৃতি রয়েছে তৃণমূলে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 3 February 2026 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিধানসভায় নতুন দায়িত্ব পেলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত (accused in corruption case,promotion), বর্তমানে জামিনে মুক্ত পার্থকে বিধানসভার লাইব্রেরি কমিটির সদস্য করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন, অগ্নিনির্বাপণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটিতেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিধানসভায় পার্থর এই ‘ফেরত’ দেখেই কটাক্ষে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Aadhikari)। তাঁর মন্তব্য, “আগামী বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Elections) তৃণমূল পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ভোটেও লড়াতে পারে। তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।”
শুভেন্দুর দাবি, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও যাঁরা দলের অনুগত, তাঁদেরই পুরস্কৃত করার সংস্কৃতি রয়েছে তৃণমূলে।
এই প্রসঙ্গেই সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্তব্য টেনে আনেন শুভেন্দু। শাহ বলেছিলেন, “তৃণমূল মানেই দুর্নীতি,” এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন—দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা-মন্ত্রীদের টিকিট না দিলে তবেই বোঝা যাবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কাজ সমর্থন করেন না। শুভেন্দুর মতে, "আমার নেতা অমিত শাহ, যা বলেছিলেন, সেটাই হল!"
উদাহরণ হিসেবে কেষ্ট মণ্ডলের নাম তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, কেষ্ট মণ্ডলের (অনুব্রত মণ্ডলের) ক্ষেত্রে ‘পদোন্নতি’ হয়েছে, নিরাপত্তা বেড়েছে, এমনকি এসআরডিএ-র মতো মন্ত্রী পদমর্যাদার নীল বাতির গাড়িও দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর তোপ, “অর্থাৎ যাঁরা এই ধরনের অসামাজিক কাজ করবে, তাদের সম্মান দেওয়া হবে—এটাই তৃণমূলের নীতি। তাই পার্থ ভোটে লড়লেও আশ্চর্য হব না।”
একই সঙ্গে সদ্য তৃণমূল ত্যাগ করে জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, হুমায়ুনকে দিয়ে এই সব কাজ করাচ্ছে তৃণমূলই। কারণ, মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু সমাজ ওবিসি, ওয়াকফ-সহ একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলের উপর ক্ষুব্ধ। সেই ভোট যাতে বিজেপির দিকে না যায়, তাই বাবরের নাম তুলে ধর্মীয় আবেগে উসকানি দিয়ে সংখ্যালঘু ভোট ধরে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর। শুভেন্দুর মতে, ভোটের পরে কয়েকটি আসন নিয়ে হুমায়ুন আবার তৃণমূলে ফিরবেন।
বামেদের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, প্রকাশ্যে তৃণমূল বিরোধিতা করলেও বামেদের এই রাজনীতি কার্যত ৬ শতাংশ ভোট কেটে শাসকদলকে টিকিয়ে রাখছে। তাই আসন্ন ভোটে ‘নো ভোট টু তৃণমূল’ নিশ্চিত করার ডাকও দেন তিনি।