দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ট্রোলিং এবং অশালীন মন্তব্যে বিরক্ত অভিনেত্রী সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বাধ্য হয়ে তাঁকে নিজের পোস্টের কমেন্ট বিভাগ বন্ধ রাখতে হয়েছে।

শেষ আপডেট: 14 April 2026 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া এখন খবর, মতামত ও ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের অন্যতম প্রধান মঞ্চ। কিন্তু এই একই প্ল্যাটফর্মে ক্রমশ বাড়ছে বিদ্বেষ, কটূক্তি এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের প্রবণতা, যার শিকার হচ্ছেন বিশেষ করে জনসম্মুখে থাকা ব্যক্তিরা। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধেই এবার সরব হলেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya)। এই প্রথম নয়, অতীতেও তিনি এই প্রসঙ্গে একাধিকবার মুখ খুলেছেন। বন্ধ রেখেছেন কমেন্ট বক্সও। তবে আরও একবার কিছু কথা না বললেই নয়, মনে করে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন অভিনেত্রী।
দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ট্রোলিং এবং অশালীন মন্তব্যে বিরক্ত অভিনেত্রী সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে বাধ্য হয়ে তাঁকে নিজের পোস্টের কমেন্ট বিভাগ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তাঁর কথায়, কিছু মানুষ এমনও আছেন যারা অসুস্থ মানুষের ছবি নিয়েও বিদ্রূপ করতে পিছপা হন না, কিংবা ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তেও কাউকে আক্রমণ করতে দ্বিধা বোধ করেন না।
এই ধরনের আচরণকে তিনি কেবল অসভ্যতা নয়, এক ধরনের মানসিক বিকার বলেই মনে করছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের মন্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না, কারণ এর প্রভাব গভীর—অনেক সময় তা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে আঘাত হানে।
এই প্রেক্ষিতেই কড়া অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অপরাজিতা। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আইন অনুযায়ী এই ধরনের আচরণ শাস্তিযোগ্য। খুব শীঘ্রই তিনি সেই সমস্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে আনবেন, যারা নিয়মিত এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য করছেন।
শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভেই থেমে থাকেননি তিনি। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সংস্থাগুলির ভূমিকাও তুলে ধরেছেন। গুগুল (Google) এবং ইস্টাগ্রাম (Instagram)-এর কাছে তাঁর আবেদন, যাতে দ্রুত এমন অ্যাকাউন্টগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)-র মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠদের, বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কা সরকার (Priyanka Sarkar)-কে ঘিরে যে ধরনের কটূক্তি সামনে আসে, তা নিয়েও ক্ষোভ ছড়ায় একশ্রেণির মনে। তিনি লেখেন, ‘একজন মানুষ কখনও একজন স্বামীহারা নারী কাজে ফিরলে বলতে পারে না— “শ্রাদ্ধ হয়নি, এখনই কাজে ফিরল?” এগুলো মতামত নয়। এগুলো মানসিক নির্যাতন। মানসিক হিংসা।’
সব মিলিয়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রমবর্ধমান এই নেতিবাচক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি প্রতিবাদের পথে হাঁটতে চাইছেন অপরাজিতা। তাঁর এই পদক্ষেপ নতুন করে আলোচনায় তুলে আনল ডিজিটাল দায়বদ্ধতার প্রশ্নকেও।