গবেষকদের দাবি, এই হাড়ের খণ্ডাংশ শুধু একটি প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ নয়, বরং দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন পরিবেশ ও জলবায়ুর এক জীবন্ত দলিল।
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 3 February 2026 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমঘাটের গভীর অরণ্য থেকে উঠে এল এক বিস্ময়কর অতীত। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর সংলগ্ন মোলাপালয়াম প্রত্নস্থলে উদ্ধার হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর পুরনো গণ্ডারের হাড়ের খণ্ডাংশ (3500 year old rhino bone fragments found in western ghats)।
এই আবিষ্কার ঘিরে নতুন করে আলোচনায় ভারতের প্রাচীন বন্যপ্রাণীর বিস্তার (rewrite indias wildlife map)। কারণ এতদিন পর্যন্ত ধারণা ছিল, একশৃঙ্গ গণ্ডার মূলত উত্তর-পূর্ব ভারত এবং গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র অববাহিকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এই খোঁজ সেই ধারণায় বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন বসাল।
প্রত্নতাত্ত্বিক ও জীবাশ্ম বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধার হওয়া হাড়গুলি খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৬০০ থেকে ১৪০০ সালের মধ্যেকার। সেই সময়ে পশ্চিমঘাট অঞ্চলে বিস্তৃত ঘাসভূমি ও জলাভূমি ছিল, যা গণ্ডারের মতো বিশাল তৃণভোজী প্রাণীর বসবাসের পক্ষে যথেষ্ট অনুকূল। আজকের ঘন অরণ্য আর পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির আড়ালে যে একসময় এমন বাস্তুতন্ত্র ছিল, এই আবিষ্কার তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গবেষকদের দাবি, এই হাড়ের খণ্ডাংশ শুধু একটি প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ নয়, বরং দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন পরিবেশ ও জলবায়ুর এক জীবন্ত দলিল। জলবায়ু পরিবর্তন, বনভূমির সংকোচন এবং মানব সভ্যতার বিস্তারের ফলে ধীরে ধীরে এই অঞ্চল থেকে গণ্ডারের মতো বড় প্রাণীরা হারিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল বলেই অনুমান।
মোলাপালয়াম প্রত্নস্থলে এর আগেও নানা ধরনের প্রাণীর জীবাশ্ম মিলেছে। তবে গণ্ডারের উপস্থিতি সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি প্রমাণ করছে যে ভারতীয় উপমহাদেশে বন্যপ্রাণীর বিস্তার আজকের মানচিত্রের তুলনায় বহু গুণ বেশি ছিল। এক সময়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ—সমগ্র উপমহাদেশ জুড়েই বিচরণ করত এই বিশাল স্তন্যপায়ী।
এই আবিষ্কার নতুন করে গবেষণার দরজা খুলে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আর কী কী হারিয়ে যাওয়া প্রাণীর চিহ্ন লুকিয়ে আছে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিমঘাটের এই গণ্ডার-চিহ্ন শুধু অতীতের গল্প নয়, ভবিষ্যতের গবেষণার দিশাও দেখাবে।