পুলিশের ওপর যে তাঁর বিন্দুমাত্র আস্থা নেই পরিষ্কার জানিয়ে দেন হোসেন শেখ। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি আমার কোনও ভরসা নেই। আমি দোষীদের শাস্তি চাই। প্রয়োজনে সব কিছু বিসর্জন দিতেও আমি রাজি।”

মেয়ের খবরে শোকার্ত বাবা
শেষ আপডেট: 24 June 2025 14:05
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার পর ওড়িশা থেকে বাড়িতে এসে পৌঁছলেন মৃত নাবালিকার বাবা হোসেন শেখ। তিনি বাড়িতে পা রাখতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। হোসেনের কন্যাশোকের ভাগিদার হয় গোটা এলাকা। বিষণ্ণতা গ্রাস করে মোলান্দি গ্রামকে।
পুলিশের ওপর যে তাঁর বিন্দুমাত্র আস্থা নেই পরিষ্কার জানিয়ে দেন হোসেন শেখ। তিনি বলেন, “পুলিশের প্রতি আমার কোনও ভরসা নেই। আমি দোষীদের শাস্তি চাই। প্রয়োজনে সব কিছু বিসর্জন দিতেও আমি রাজি।” সিবিআই তদন্তের দাবি তুলে তিনি বলেন, “ন্যায়বিচারের জন্য আমরা লড়ব। এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হোক।” এলাকার মানুষও হোসেন শেখের দাবিকে সমর্থন জানান।
সোমবারের পর মঙ্গলবারও ফের মৃত নাবালিকার বাড়িতে যান কৃষ্ণনগরের বিজেপি সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, পরিবার যদি তাঁদের সহযোগিতা চান তাহলে তাঁরা সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি দোষীদের কঠোর শাস্তিরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার কালীগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদের জয়ের খবরে উদ্বেল হয়ে ওঠেন কর্মী সমর্থকরা। এই বিজয় উল্লাসই হাহাকার ডেকে আনে হোসেন শেখের পরিবারে। দুপুরে তাঁর দশবছরের মেয়ে যখন বসে ভাত খাচ্ছিল, তখনই বিজয়মিছিল থেকে তাঁদের বাড়িতে বোমা পড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই নাবালিকার।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক হিংসা মোলান্দি গ্রামে নতুন নয়। ৯০ এর দশক থেকেই বাম কংগ্রেস দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল। ২০১১ সালের পরে তৃণমূল-সিপিআইএম সংঘর্ষ ক্রমশ তীব্র হয়। ২০২২ সালে এক তৃণমূল নেতা এবং ২০২৩ সালে পুলিশ আহত হন বোমাবাজিতে। সোমবার ঘটনার পর কালীগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রামে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে এবং কড়া নজরদারি চলছে।
সোমবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন DYFI নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী, কংগ্রেস প্রার্থী কাবিল উদ্দিন শেখ, বিজেপি নেতা আশিস ঘোষ সহ অন্যরা। সকলেই মৃত শিশুর পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। নাবালিকার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।