ভবানীর বাবার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে একই দুই কামরার বাড়িতে থাকতে হচ্ছিল ঈশানকে। সেই ঘরে ভবানীর থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল।

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 2 January 2026 18:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে আলাদা হয়ে বাবার বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন তরুণী (Divorced Daughter )। সেই নিয়েই পারিবারিক অশান্তির অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত ঘর দখল করে থাকা নিয়ে বিবাদের জেরে মেয়েকেই খুন (Murder) করার অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করে দেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় কুয়োয় ফেলে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে অভিযুক্তকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার (Bankura News) শ্যামপুর গ্রামে।
খুনের ঘটনা প্রায় ১৩ দিন আগের, সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা ঈশান মালের মেয়ে ভবানী মাল (২২)-এর বিয়ে হয়েছিল প্রায় দু’বছর আগে বিকনা গ্রামে। কিন্তু দাম্পত্যে বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। নিজের খরচ চালাতে আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন ভবানী। তিনি ছিলেন ঈশানের প্রথম পক্ষের সন্তান।
পুলিশের দাবি, ভবানীর বাবার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী এবং তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে একই দুই কামরার বাড়িতে থাকতে হচ্ছিল ঈশানকে। সেই ঘরে ভবানীর থাকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। বারবার মেয়েকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হলেও তিনি যাননি। এই নিয়েই পরিবারে অশান্তি চরমে ওঠে।
অভিযোগ, গত ১৪ ডিসেম্বর ঈশান ইট দিয়ে ভবানীর মাথায় আঘাত করে তাঁকে খুন করেন। তার পরে দেহ বস্তায় মুড়ে ওন্দা থানার দিগশুলি জঙ্গলের মধ্যে একটি কুয়োয় ফেলে দেওয়া হয়। খুনের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার গল্প ফাঁদেন ঈশান। ঘটনার প্রায় ১৩ দিন পর থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়।
এর মধ্যেই গত ৩১ ডিসেম্বর জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়ে স্থানীয় কয়েক জন কুয়োর দিক থেকে দুর্গন্ধ পান। কুয়োর ভিতরে বস্তাবন্দি দেহ ভাসতে দেখে তাঁরা ওন্দা থানায় খবর দেন। পুলিশ গিয়ে কুয়ো থেকে দেহ উদ্ধার করে।
এরপর স্বতঃপ্রণোদিত খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে ওন্দা থানার পুলিশ। তদন্তে বাবার দিকেই সন্দেহ গাঢ় হয়। জেরায় অভিযুক্ত ঈশান মাল মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।