বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের বন দুবরাজপুরের পর এবার অজানা জন্তুর পায়ের ছাপ মিলল ওই ব্লকেরই বিক্রমপুর এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, ওই ছাপ বাঘেরই। বন দফতর পায়ের ছাপের মাপ ও ছবি সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছে। যদিও বন দফতরের প্রাথমিক অনুমান বাঘ নয় ওই পায়ের ছাপগুলি আসলে বাঘরোল জাতীয় জন্তুর।

শেষ আপডেট: 22 December 2025 16:34
দ্য় ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: ঠিক এক বছর আগে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে এসে ধরা পড়েছিল ওড়িশার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্পের বাঘিনী জিনাত। তারপরেও একাধিকবার বাঘ ঢুকেছে। এবার আবার বাঘের আতঙ্ক তাড়া করতে শুরু করল বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের মানুষকে।
বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের বন দুবরাজপুরের পর এবার অজানা জন্তুর পায়ের ছাপ মিলল ওই ব্লকেরই বিক্রমপুর এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, ওই ছাপ বাঘেরই। বন দফতর পায়ের ছাপের মাপ ও ছবি সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠাচ্ছে। যদিও বন দফতরের প্রাথমিক অনুমান বাঘ নয় ওই পায়ের ছাপগুলি আসলে বাঘরোল জাতীয় জন্তুর।
গত বছর নভেম্বর মাসে ওড়িশার সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় বাঘিনী। দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে সেই বাঘিনী ঝাড়খণ্ড হয়ে সটান এসে হাজির হয় এ রাজ্যে। তারপর দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়ার বিভিন্ন জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়। বাঘিনীকে ধরতে বিস্তর চেষ্টা চালায় বন দফতর। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বন কর্মীদের ঘোল খাইয়ে অবশেষে বাঘিনী হাজির হয় বাঁকুড়ার জঙ্গলে। গত বছর ২৯ ডিসেম্বর সেখানেই বন দফতরের গুলিতে কাবু হয়ে সেই বাঘিনী ধরা দেয় বন দফতরের হাতে।
চলতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেও একাধিকবার বাঘের আতঙ্ক ছড়ায় বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ জঙ্গল এলাকায়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে ফের জঙ্গলমহলে বাঘের আতঙ্ক তৈরি হল। রবিবার বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের বন দুবরাজপুর এলাকায় আলুর জমির নরম মাটিতে অজানা জন্তুর পায়ের ছাপ দেখা যায়। গতকালের পর সিমলাপাল ব্লকেরই বিক্রমপুর এলাকায় সোমবার একই ধরনের পায়ের ছাপ দেখা যায়।
খবর পেয়ে এদিন বিক্রমপুর গ্রাম লাগোয়া আলুর জমিতে যান বন কর্মীরা। সেখানে গিয়ে পায়ের ছাপের মাপ ও ছবি সংগ্রহ করেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, স্বচক্ষে কেউ জন্তুটিকে না দেখলেও পায়ের ছাপ দেখে তাঁরা নিশ্চিত এই পায়ের ছাপ আসলে বাঘেরই। যদিও বন দফতর জন্তুটিকে বাঘ বলে মানতে নারাজ। তাঁদের প্রাথমিক অনুমান, যে পায়ের ছাপগুলি দেখা যাচ্ছে তা আসলে বাঘরোল জাতীয় কোনও জন্তুর হয়ে থাকতে পারে।