অনেক পরিবারের সদস্যের ভিন্ন ভিন্ন জমি থাকলেও কৃষক ক্রেডিট কার্ড মাত্র একটি। ফলে ১৫ কুইন্টালের বেশি ধান উৎপাদিত হলেও একবারে বিক্রি করা যাচ্ছে না।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 25 October 2025 10:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সরকার ২৫-২৬ অর্থবর্ষে ধান বিক্রির জন্য নতুন নির্দেশিকা (New Guideline) জারি করেছে। নতুন নিয়মে একজন চাষি একবারে সর্বোচ্চ ১৫ কুইন্টাল ধান বিক্রি করতে পারবেন। গত বছর এই সীমা ছিল ৩০ কুইন্টাল। এছাড়া সর্বোচ্চ বিক্রির পরিমাণ রাখা হয়েছে ৯০ কুইন্টাল।
এই নতুন নিয়মে সমস্যায় পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা (Farmers in the face of losses)। অনেক পরিবারের সদস্যের ভিন্ন ভিন্ন জমি থাকলেও কৃষক ক্রেডিট কার্ড মাত্র একটি। ফলে ১৫ কুইন্টালের বেশি ধান উৎপাদিত হলেও একবারে বিক্রি করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রেই জমির কাগজপত্রও নেই। এর ফলে কৃষকরা ধান খোলা বাজারে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ঝাড়গ্রাম জেলা খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ দফতরের আধিকারিক সুজয় দাস। তিনি বলেন, “একবারে ১৫ কুইন্টাল ধান বিক্রি নিয়ে প্রান্তিক চাষিরা সমস্যায় পড়ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
ঝাড়গ্রাম জেলা ছোট ছোট জমির জন্য পরিচিত। পরিবারে একাধিক সদস্যের নামের জমি ভিন্ন হলেও কিষাণ মান্ডিতে ধান বিক্রি করার জন্য সাধারণত একটি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহৃত হয়। নতুন নিয়মে জেলার বহু কৃষক ফাঁপড়ে পড়ছেন। প্রান্তিক এলাকার জনজাতি কৃষকদের অনেকের জমির কাগজ নেই। ফলে সরকারি মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে পারছেন না।
কৃষকরা বলছেন, যারা বিক্রি করতে পারছেন না, তাঁদের ধান ফড়ের হাতে কম দামে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। মানিকপাড়ার ছানাপাড়া গ্রামের কৃষক সঞ্জয় দত্ত বলেন, “আমরা তিন ভাই। ভাইয়ের নামে ক্রেডিট কার্ড আছে। ওই কার্ডে ধান বিক্রি করেছি। নতুন নিয়মে এবার বিক্রি করতে পারিনি। খোলা বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হল। ফড়েরা সেই সুযোগ নিল।”
আরেক কৃষক শুভ্র মাহাত বলেন, “গ্রামীণ এলাকায় পরিবারের সদস্যরা আলাদা হলেও জমি বাবার নামে। ক্রেডিট কার্ডও একটাই। নতুন নিয়মে সরকারি দামের চেয়ে ৫০০–৬০০ টাকা কমে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।”
তথৈবচ হাল রাজ্যের বহু জেলার চাষিদের। বাঁকুড়ার এক কৃষক বললেন, “প্রকৃত চাষিরা দুইটি ক্রেডিট কার্ড থাকা সত্ত্বেও ৩০ কুইন্টালের বেশি বিক্রি করতে পারছেন না। বাড়তি ধান খোলা বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। অথচ যারা প্রকৃত চাষি নন, সামান্য জমি দেখিয়ে কার্ড করে নিয়েছেন। ফড়েরা সেই কার্ড ব্যবহার করে কম দামে কেনা ধান কিষাণ মান্ডিতে বিক্রি করছে। সরকারকে এমন নিয়ম তৈরি করতে হবে যাতে প্রকৃত চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”
অধিকাংশ কৃষক মনে করছেন, ধানের বিক্রির সীমা নির্ধারণে জমির পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন, নয়তো প্রকৃত চাষি ও ফড়েরা নতুন নিয়মের সুযোগ নেবে। এখন দেখার, খাদ্য দফতর এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ করে।