মাঠে এখনও ফাটল। সবুজের বদলে ধুলো। আদালতের নির্দেশে জমি ফিরেছিল, কিন্তু ফসল ফেরেনি!
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 29 January 2026 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঠে এখনও ফাটল। সবুজের বদলে ধুলো। আদালতের নির্দেশে জমি ফিরেছিল, কিন্তু ফসল ফেরেনি! এই দ্বন্দ্ব নিয়েই বুধবার সিঙ্গুরে (FSingur) মুখ্যমন্ত্রীর (Chief Minister Mamata Banerjee) সভার দিকে তাকিয়ে ছিলেন আন্দোলনের প্রথম সারির কৃষকনেতারা (Farmers)। আশা ছিল, মঞ্চ থেকে মিলবে দিশা। কথা উঠবে জমি চাষযোগ্য করার। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। স্বভাবতই হতাশা আন্দোলনকারীদের অনেকে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা রেখেই সভায় হাজির হয়েছিলেন দুধ কুমার ধারা, মহাদেব দাসেরা। তাঁদের প্রত্যাশা, যে জমি ফেরানো হয়েছে, তা যেন আবার চাষের উপযোগী হয়। আন্দোলনকারীদের সাফ কথা, “জমি ফেরতের মতোই চাষযোগ্য করার দাবিও চলবে। দরকার হলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই দেখা করব।”
পটভূমিতে সুপ্রিম কোর্টের ২০১৬ সালের নির্দেশ। টাটা কারখানার জমি কৃষকদের চাষযোগ্য করে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল শীর্ষ আদালত। রাজ্য সরকার ডিনামাইট দিয়ে কারখানা ভেঙে জমি ফিরিয়েছিল। কিন্তু সিঙ্গুরের কৃষকদের অভিযোগ, ফেরানো জমির প্রায় ৭০ শতাংশ আজও চাষের উপযোগী হয়নি।
দুধ কুমার ধারার কণ্ঠে সেই পুরনো বিশ্বাস আর নতুন হতাশা মিলেমিশে যায়। আন্দোলনের দিনগুলোর কথা টেনে তিনি বলেন, এক দিকে শিল্প, অন্য দিকে কৃষির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু বাস্তবে জমি আজও বন্ধ্যা। তাঁর অভিযোগ, চাষযোগ্য করতে যে সরকারি অর্থ খরচ হয়েছে, তার সঠিক ব্যবহার হয়নি।
একই সুর মহাদেব দাসের গলাতেও। নিকাশির নামে প্রকল্পের জমি ব্যবহার হচ্ছে, কিন্তু চাষের ব্যবস্থা নেই। তাঁদের দাবি স্পষ্ট, চাষের সুযোগ করে দিক সরকার, না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নিক। এ ব্যাপারে শীঘ্রই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তাঁর হস্তক্ষেপের দাবি জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।
তবে বুধবার সিঙ্গুরে এলেও শিল্পের জন্য অধিগৃহীত জমি চাষযোগ্য করা নিয়ে মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতাকে হাতিয়ার করেছে বিরোধী শিবির। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ১৫ বছরে কত শিল্প এল, কত চাকরি হল? প্রতিশ্রুতির হিসেব মিলছে কোথায়?