এখন দেখার, নবান্নের আবেদন ও বিকল্প প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং শেষ পর্যন্ত কোন কোন আধিকারিককে কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে রাখা হয়।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 29 January 2026 19:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্তরে শুরু হল নতুন টানাপোড়েন। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরিতে ভোটের প্রস্তুতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ২৫ জন সিনিয়র অফিসারকে কেন্দ্রীয় অবজারভার (Central Observers) হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ জারি করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ওই তালিকায় রয়েছেন ১৫ জন আইএএস ও ১০ জন আইপিএস অফিসার।
এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনার নাম থাকতেই আপত্তি তোলে রাজ্য সরকার। নবান্নের (Nabanna) যুক্তি, ভোটের মুখে রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে পাঠানো হলে আইনশৃঙ্খলা-সহ প্রশাসনিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সেই কারণেই স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ মোট ৯ জন অফিসারকে কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হয়েছে (seeking removal of 9 officers including the Home Secretary)।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা সহ যে ৯ জন অফিসারকে কমিশন কেন্দ্রীয় অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছে এরা হলেন, আইএএস সঞ্জয় বনসল, পি মোহন গান্ধী, অবনীন্দ্র সিং, পি বি সালিম, সৌমিত্র মোহন, শুভাজ্ঞন দাস, রচনা ভগত এবং পি উলগানাথন।
বিকল্প হিসেবে নবান্ন কমিশনের কাছে যে ৯ জন আধিকারিকের নাম পাঠিয়েছে, এরা হলেন- রাজীব কুমার, অভিনব চন্দ্র, নিরঞ্জন কুমার, ডঃ বিশ্বনাথ, অপলা শেঠ, তাপস কুমার বাগচী, সসীম কুমার বড়াই, সোনম ভুটিয়া এবং আর অর্জুন।
এদিকে, কমিশনের মনোনীত তালিকায় থাকা দুই আইপিএস অফিসার নিজেদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সমস্যার কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছেন। তাঁরা হলেন ঋষীকেশ মিনা ও ভরতলাল মিনা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের প্রশাসনিক টানাপোড়েন নতুন নয়। তবে যে রাজ্যে ভোট হতে চলেছে, সেই রাজ্যেরই স্বরাষ্ট্রসচিবের নাম কেন্দ্রীয় অবজারভার তালিকায় থাকা নজিরবিহীন বলেই মত বিশ্লেষকদের। সেই কারণেই রাজ্যের তরফে অব্যাহতির আবেদনকে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, কেন্দ্রীয় অবজারভার নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অন্তত পাঁচবার অফিসারদের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনও সাড়া না পাওয়ায় কমিশন নিজেই অবজারভারদের তালিকা চূড়ান্ত করে তা প্রকাশ করে। পাশাপাশি, এই নির্দেশ কার্যকর করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিস সার্ভ করার কথাও জানানো হয়েছে— ই-মেল, সরাসরি যোগাযোগ বা উপলব্ধ যে কোনও মাধ্যমে নোটিস পৌঁছে দিয়ে আধিকারিকের স্বীকৃতিসহ তা গ্রহণ করাতে হবে।
তবে কমিশনের নির্দেশ জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নবান্নের পাল্টা চিঠি পৌঁছনোয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ফের প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার, নবান্নের আবেদন ও বিকল্প প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে এবং শেষ পর্যন্ত কারা কেন্দ্রীয় অবজারভারের দায়িত্বে থাকেন।