জেলাশাসক আয়েশা রানি এ ব্যাপারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 January 2026 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্ধমানের (Burdewan) স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন(Health Department)। কালনা মহকুমা হাসপাতালের এক চিকিৎসকের দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকা কার্যত চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার ফাঁকফোকর। খোসবাগানের মহাজনটুলির একটি নার্সিংহোমে (Nursinghome) ওই চিকিৎসকের অধীনে ভর্তি থাকা এক প্রসূতির ডেলিভারির সময় চিকিৎসক হাজির না থাকায় নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মীদের দিয়েই প্রসব করানো হয়। সদ্যোজাতের মৃত্যুর পরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে (False report from duty evasion, Multiple nursing homes and diagnostic centers in the scanner)।
ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, কালনা মহকুমা হাসপাতালের ওই চিকিৎসক সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে বর্ধমানের নার্সিংহোমে নিয়মিত প্র্যাকটিস করছেন কি না। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, শুধু ওই চিকিৎসক নন, আরও কোন কোন সরকারি চিকিৎসক একই ভাবে নার্সিংহোমে যুক্ত রয়েছেন, তার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। অভিযোগ, সময় দিতে না পারলেও খাতায়-কলমে একাধিক প্রসূতিকে নিজেদের অধীনে ভর্তি করছেন তাঁরা। ফলে জটিল পরিস্থিতিতে নার্সিংহোমের কর্মীদেরই প্রসব করাতে হচ্ছে।
এতেই শেষ নয়। বর্ধমান শহরের কয়েকটি ইসিজি সেন্টারের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। নিয়মভঙ্গ ও বারবার ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে একটি ইসিজি সেন্টার ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এত দিন প্রভাব খাটিয়ে রেহাই পেলেও এবার আর ‘ম্যানেজ’ হয়নি। খোসবাগানের আর এক প্রভাবশালী ডায়াগনস্টিক সেন্টারকেও নোটিস ধরানো হয়েছে। পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারায় তার লাইসেন্স রিনিউ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কয়েকটি ইসিজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়ম না মানলে কোনও সেন্টারের লাইসেন্সই নবীকরণ করা হবে না। একই কারণে জামালপুরের একটি নার্সিংহোমও সম্প্রতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জেলাশাসক আয়েশা রানি এ ব্যাপারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না। চিকিৎসক বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।