তবে শুধু শ্বাসরোধ নয়, দীর্ঘ সময় হিটার ব্যবহার বাতাস থেকে আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, যা নাক, গলা ও ত্বকের শুষ্কতা বাড়ায়। এ রোগ শ্বাসনালীর সমস্যা যেমন হাঁপানি, অ্যালার্জি আরও খারাপ করতে পারে; খুব জটিল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তপাতও ঘটতে পারে।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 12 January 2026 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর ভারতের তীব্র শীতে হিটার ও দেশি ব্রেজার (angeethi) যেন হয়ে উঠেছে নীরব হত্যাকারী (Winter brings to life a ‘silent killer)। গত কয়েক সপ্তাহে দিল্লি,পাঞ্জাব, বিহার ও জম্মু-কাশ্মীরসহ নানা অঞ্চলে একের পর এক পরিবার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গিয়েছে (Heater-related deaths from Delhi apartments to Bihar villages)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ কার্বন মনোক্সাইড (CO), একটি গন্ধহীন, বর্ণহীন, স্বাদহীন বিষাক্ত গ্যাস।
পাঞ্জাবের তর্নতারণে এক যুবক দম্পতি এবং তাদের এক মাস বয়সী শিশু ঘর বন্ধ রেখে ব্রেজারের ধোঁয়ায় নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা গেছেন। বিহারের গায়াজিতে ৬০ বছর বয়সী মীনা দেবী ও দুই নাতি একইভাবে মারা গেছেন। দিল্লির মুকুন্দপুরে এক পরিবার তিনজন, অ্যাজয় বিমল (৪৫), স্ত্রী নীলম (৩৮) ও মেয়ে জাহ্নভি (১০)—হিটারের শর্ট সার্কিট বা বিস্ফোরণে ধোঁয়ায় অচেতন হয়ে আগুনে দগ্ধ হন। শ্রীনগরের এক কক্ষে বৈদ্যুতিক ব্লোয়ারে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে এক পরিবার নিহত হয়।
ড. নাভিদ নাজির শাহ, চেস্ট ডিজিজ হাসপাতালের প্রধান, বলেন, “হিটার বা ব্রেজার ব্যবহার করলে বন্ধ ঘরে অক্সিজেন কমে যায়। কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই অক্সাইড জমে এবং মানুষ অচেতন হয়ে মারা যায়। এর আগে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি লক্ষ করা যেতে পারে, তবে অনেকেই বিপদের ঠিক সময় বুঝতে পারেন না।”
একটি ১৫ বছরের রেট্রোস্পেকটিভ স্টাডিতে দেখা গেছে, কার্বন মনোক্সাইডের ৯৫% মৃত্যু শীতে ঘটে, বিশেষ করে কোয়েল-ভিত্তিক পাত্র বা ব্রেজারে।
তবে শুধু শ্বাসরোধ নয়, দীর্ঘ সময় হিটার ব্যবহার বাতাস থেকে আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, যা নাক, গলা ও ত্বকের শুষ্কতা বাড়ায়। এ রোগ শ্বাসনালীর সমস্যা যেমন হাঁপানি, অ্যালার্জি আরও খারাপ করতে পারে; খুব জটিল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে অভ্যন্তরীণ রক্তপাতও ঘটতে পারে।
এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কতা শেয়ার করেছেন:
হিটার বা ব্রেজার চালালে সব দরজা-জানালা বন্ধ করবেন না।
পুরো রাত জুড়ে হিটার চালানো বিপজ্জনক।
ঘরে পানি রাখলে বাতাসের আর্দ্রতা ধরে থাকে।
কার্বন মনোক্সাইড মনিটরিং সেন্সর ব্যবহার করুন।
সব হিটার ও ব্রেজার নিয়মিত সার্ভিস করানো জরুরি।
তাই এই শীতকাল, সতর্ক না হলে ‘নীরব ঘাতক’ ঘরে ঢুকেই প্রাণ ছিনিয়ে নিতে পারে!