স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, এই প্রবণতা রোগীর সুরক্ষা, চিকিৎসার কার্যকারিতা এবং যুক্তিসংগত ওষুধ ব্যবহারের নীতির পরিপন্থী। তাই দ্রুত সংশোধনের প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য ভবন
শেষ আপডেট: 19 December 2025 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্য দফতরের তরফে পইপই করে বলার পরেও রাজ্যে রোগীর প্রেসক্রিপশন (Prescription) লেখায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম নিয়ে কড়া অবস্থান নিল স্বাস্থ্যভবন (Swasthya Bhawan)। সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও যে প্রেসক্রিপশন লেখার ক্ষেত্রে একাধিক গুরুতর ত্রুটি বারবার ধরা পড়ছে, তা মেনে নিয়েই এবার শৃঙ্খলা ফেরাতে নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। প্রেসক্রিপশনে হাতের লেখা (West Bengal News) থেকে ওষুধ নির্বাচনের অসঙ্গতি— সব কিছু নজরে রাখতে চালু হচ্ছে বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে অডিট ব্যবস্থা।
স্বাস্থ্য অধিকর্তা ও স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে জারি হওয়া আদেশনামায় জানানো হয়েছে, গত ছ’মাসে বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া প্রেসক্রিপশন সংক্রান্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে দেখা গিয়েছে, একই ধরনের অনিয়ম বারবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্তাদের মতে, এই প্রবণতা রোগীর সুরক্ষা, চিকিৎসার কার্যকারিতা এবং যুক্তিসংগত ওষুধ ব্যবহারের নীতির পরিপন্থী। তাই দ্রুত সংশোধনের প্রয়োজন।
এই উদ্দেশ্যে প্রেসক্রিপশন অডিটের রিপোর্ট সরাসরি জমা দেওয়ার জন্য একটি অ্যাপ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাইমারি, সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি কেয়ারের হাসপাতালগুলি থেকে আলাদা আলাদা ভাবে ওই অ্যাপে তথ্য আপলোড করা যাবে।
স্বাস্থ্য দফতরের বিশ্লেষণে যে প্রধান ত্রুটিগুলি উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে— চিকিৎসকদের অস্পষ্ট ও প্যাঁচানো হাতের লেখা, বেড হেড টিকিট ও ওপিডি প্রেসক্রিপশনে জেনেরিক নামের বদলে ব্র্যান্ডনেম লেখা, প্রাথমিক ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোসিস না দেওয়া, চিকিৎসকের সম্পূর্ণ পরিচয় (সই, নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, তারিখ ও সময়) উল্লেখ না করা। পাশাপাশি রোগীর গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল তথ্য ও ভাইটালস না লেখা, ওষুধের সঠিক ডোজ, ব্যবহারের সময়কাল ও প্রয়োগপদ্ধতি স্পষ্ট না করার অভিযোগও রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই ওষুধের নাম বড় হাতের অক্ষরে লেখা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর স্পষ্ট করেছে, এই ধরনের প্র্যাকটিস আর বরদাস্ত করা হবে না। নির্দেশিকা কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, হাসপাতাল সুপার, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং মেডিক্যাল কলেজের মেডিক্যাল সুপার ও অধ্যক্ষদের উপর। মেডিক্যাল কলেজ থেকে জেলা, মহকুমা, গ্রামীণ ও সুপার-স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, এমনকি প্রাথমিক ও ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্তরের সমস্ত চিকিৎসকের কাছে এই নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত অভ্যন্তরীণ প্রেসক্রিপশন অডিট জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, নির্দেশিকা মানা না হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। নিয়ম চালু হওয়ার পরে অডিটের ফলাফল-সহ একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দফতরে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে নিয়ম ভাঙলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হবে কি না, নাকি শুধু সতর্ক করেই দায়িত্ব সারা হবে— সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।