হাইকোর্টের মতে, পরিষ্কারভাবে লেখা প্রেসক্রিপশন পাওয়া রোগীর মৌলিক অধিকার। এ সিদ্ধান্ত ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের 'জীবনের অধিকার'-এর সঙ্গেই যুক্ত।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 October 2025 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন (illegible prescription)পড়তে না পেরে বিপাকে পড়েছেন, এরকম সমস্যায় পড়েননি, এমন মানুষ কমই আছেন। তবে এবার ভরসা দিতে পারে আদালতের হস্তক্ষেপ।
পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট (Punjab Haryana High Court) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, চিকিৎসকদের হাতে লেখা প্রেসক্রিপশন (doctor handwriting) অবোধ্য হলে চলবে না। ডাক্তারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, হয় স্পষ্ট করে বোঝার মতো করে গুছিয়ে লিখুন, নাহলে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন দিন (digital prescription India)।
ঘটনার সূত্রপাত এক জামিন শুনানির সময়। ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলায় মেডিকো-লিগ্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিচারপতি জসগুরপ্রীত সিং পুরি দেখতে পান, রিপোর্টের একটিও শব্দ বোঝা যাচ্ছে না। তিনি সরাসরি মন্তব্য করেন, “আদালত এটা ভেবেই অবাক হয়ে যাচ্ছে যে, রিপোর্টে একটা অক্ষরও পাঠযোগ্য ছিল না।”
আদালতের রায় ও নির্দেশ
হাইকোর্টের মতে, পরিষ্কারভাবে লেখা প্রেসক্রিপশন পাওয়া রোগীর মৌলিক অধিকার। তাই মেডিকেল শিক্ষায় হাতে লেখার পাঠ অন্তর্ভুক্ত করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আগামী দুই বছরের মধ্যে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারকে। ততদিন পর্যন্ত প্রেসক্রিপশন লিখতে হবে পরিষ্কারভাবে, বড় হাতের হরফে। আদালতের ভাষায়, এ সিদ্ধান্ত ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের 'জীবনের অধিকার'-এর সঙ্গেই যুক্ত।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
বিচারপতি পুরির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রেসক্রিপশন পাঠযোগ্য না হলে শুধু আইনগত জটিলতা নয়, রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে। অতীতে একাধিক ভারতীয় রাজ্যের আদালতও একই ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও প্রমাণ মিলেছে যে, চিকিৎসকদের খারাপ হাতের লেখার কারণে বিপুলসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। উদাহরণ হিসেবে, আমেরিকার ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন–এর ১৯৯৯ সালের রিপোর্ট বলছে, বছরে প্রায় ৭,০০০ মৃত্যু ঘটে প্রেসক্রিপশনের ভুল বোঝাবুঝির কারণে।
অন্যদিকে স্কটল্যান্ডে এক রোগী ভুল ওষুধ খেয়ে গুরুতর রাসায়নিক আঘাত পান। কারণ, চিকিৎসকের অপাঠ্য প্রেসক্রিপশন।
বিচারপতি পুরি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “যে সময়ে প্রযুক্তি ও কম্পিউটার হাতের নাগালে, সেখানে সরকারি চিকিৎসকরা এখনও এমন হাতের লেখায় প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন যা রোগী তো দূরের কথা, কেবল কিছু কেমিস্ট বা ওষুধের দোকানের লোক ছাড়া কেউই বুঝতে পারেন না।”
চিকিৎসক মহলের প্রতিক্রিয়া
এই প্রসঙ্গে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন–এর প্রেসিডেন্ট দিলীপ ভানুশালি বলেন, “আমরা সদস্যদের সরকারী নির্দেশ মেনে বড় অক্ষরে প্রেসক্রিপশন লেখার পরামর্শ দিয়েছি। দিনে ৭ জন রোগী দেখলে তা সম্ভব, কিন্তু ৭০ জন হলে সেটা কঠিন।”
তবে আদালতের মতে, প্রেসক্রিপশন নিয়ে কোনও রকম আপোসই মেনে নেওয়া যাবে না। কারণ এটি সরাসরি রোগীর জীবনের সঙ্গে যুক্ত।