ইঙ্গিত স্পষ্ট, ফেব্রুয়ারি থেকেই মাঠে নামতে পারে প্রকল্প। রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের তরফে সমস্ত জেলাকে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের জন্য ‘লেবার বাজেট’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেষ আপডেট: 19 January 2026 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ টানাপড়েন, আইনি লড়াই (Calcutta High court, Supreme Court) ও কেন্দ্র-রাজ্য টানাপড়েনের আবহে অবশেষে রাজ্যে (West Bengal) ফের চালু হতে চলেছে ১০০ দিনের কাজ (100 days work, NREGA)। ইঙ্গিত স্পষ্ট, ফেব্রুয়ারি থেকেই মাঠে নামতে পারে প্রকল্প। রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের তরফে সমস্ত জেলাকে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের জন্য ‘লেবার বাজেট’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশ ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের হাত ঘুরে পৌঁছে গিয়েছে ব্লক স্তরে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের ১০০ দিনের কাজের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সম্প্রতি প্রত্যেক জেলার জেলাশাসককে চিঠি পাঠান। তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দ্রুত লেবার বাজেট তৈরি করে রাজ্যে পাঠাতে হবে। সেই অনুযায়ী বিডিওদের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের এক আধিকারিক জানান, “নতুন নির্দেশিকা মেনে কাজের ধরন ও প্রকল্প নির্বাচন করতে বলা হয়েছে। আগের মতো আর সব প্রকল্প চলবে না।”
কেন এতদিন বন্ধ ছিল কাজ?
দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে নিয়মিত চলেছে মহাত্মা গান্ধী এনআরইজিএস প্রকল্প, সেখানে বাংলায় দীর্ঘদিন ধরেই কার্যত বন্ধ ছিল এই প্রকল্প। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল দুর্নীতি। রাজ্যের দাবি, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় চাপিয়ে গোটা রাজ্যকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। আদালত স্পষ্ট জানায়, কোনও কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে একটি রাজ্যের উপভোক্তাদের এভাবে বাদ দেওয়া যায় না। তবুও কাজ শুরুর বিষয়ে গড়িমসি চলছিল। অবশেষে ১৬ জানুয়ারি রাজ্য পঞ্চায়েত দফতরের কমিশনারের চিঠিতে ফের কাজ শুরুর ইঙ্গিত মিলেছে।
কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল রাজ্য
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী—
২১ জানুয়ারির মধ্যে পঞ্চায়েত স্তরে সম্ভাব্য প্রকল্পের তালিকা চূড়ান্ত করতে হবে
২২ জানুয়ারি বিশেষ গ্রামসভায় তা পাশ করাতে হবে
২৭ জানুয়ারি ব্লক স্তরে অনুমোদনের পর জেলায় পাঠাতে হবে
৩০ জানুয়ারি জেলার তরফে রাজ্যে তালিকা পাঠানো বাধ্যতামূলক
২ ফেব্রুয়ারি রাজ্য স্তরে প্রকল্প নথিভুক্তির শেষ সময়
এই সময়সীমা মানতে না পারলে প্রকল্প অনুমোদনে সমস্যা হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত।
নতুন নিয়মে কী বদলাচ্ছে?
এবার প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে একাধিক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
২০ লক্ষ টাকার বেশি কোনও প্রকল্প অনুমোদন করা যাবে না
একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে একসঙ্গে ১০টির বেশি প্রকল্প চলবে না
জেলাশাসক বা জেলা প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক
স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি না হয়, এমন কাজ এড়াতে হবে। পুকুর খনন, সেচখাল সংস্কার বা মাটি কাটার মতো কাজ ‘অ্যাকশন প্ল্যান’-এ রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, রাজ্যে ফের ১০০ দিনের কাজ চালুর প্রস্তুতি শুরু হলেও এবার প্রশাসনিক নজরদারি যে অনেক বেশি কড়া, তা স্পষ্ট। এখন দেখার নিয়মের জালে আটকে না গিয়ে আদৌ কত দ্রুত কাজ পান গ্রামবাংলার শ্রমিকরা!