মঞ্চে উপস্থিত পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের উদ্দেশে মমতা বলেন, "ববি, আমার মনে হয় গোটা কলকাতাতেই এই সিস্টেম করা উচিত। দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে যাবে, শহর সবদিক থেকে উপকৃত হবে।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 29 October 2025 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই প্রথমবার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর (Jagaddhatri Puja) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)। বড়বাজারের পোস্তাবাজার মঞ্চ থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করলেন কৃষ্ণনগর ও চন্দননগরের একাধিক জগদ্ধাত্রী পুজোর। একই সঙ্গে এদিন থেকে দার্জিলিংয়ে শুরু হওয়া অষ্টম সরস মেলারও উদ্বোধন করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী চন্দননগরের (Chandannagar) ১৫০ কিমি রাস্তায় মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহের (Electricity Cables, Underground) ব্যবস্থারও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। মঞ্চে উপস্থিত পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) উদ্দেশে মমতা বলেন, "ববি, আমার মনে হয় গোটা কলকাতাতেই এই সিস্টেম করা উচিত। দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে যাবে, শহর সবদিক থেকে উপকৃত হবে।"
তবে উৎসবের আনন্দের সঙ্গে মিশেছে উদ্বেগও। এনআরসির আতঙ্কে মঙ্গলবার আগরপাড়ায় ৭৭ বছরের প্রদীপ কর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। একই আতঙ্কে কোচবিহারের দিনহাটায় আরও একজন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে জানিয়ে দেন, "উদয়ন, তুমি জানো, তোমার দিনহাটায় একজন এনআরসির ভয়ে বিষ খেয়েছে। ফিরে গিয়ে ওনার বাড়ি যাও, এটা তোমার এলাকা।"
কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এখন রাজ্যজুড়ে নজরকাড়া। ভিড় সামলাতে প্রশাসনের তরফেও সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমার ইচ্ছে ছিল আপনাদের এলাকায় গিয়ে পুজো উদ্বোধন করার, কিন্তু এবারে সেটা সম্ভব হয়নি। আগামীতে অবশ্যই যাব।"
নদিয়ার কৃষ্ণনগরের উৎসবের রূপ বরাবরই কলকাতা-কেন্দ্রিক পুজোর থেকে ভিন্ন। দুর্গাপুজোর চেয়ে শহরের জাঁকজমক কম হলেও, জগদ্ধাত্রী পুজোয় শহর এক আলোকিত উৎসবনগরীতে পরিণত হয়। প্রতিবছর কয়েকশো জগদ্ধাত্রী পুজো আয়োজিত হয়, ফলে চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরের মধ্যে তৈরি হয় নিঃশব্দ, কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক টানাপোড়েন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই সংশ্লিষ্ট দুটি এলাকার একাধিক জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধন করা হল।