শুরু হয়ে গেল টানা এক মাসের আপত্তি ও অভিযোগ জানানোর পর্ব। কারও নাম বাদ পড়লে, কোথাও বানান বা তথ্যগত ভুল থাকলে—সব অভিযোগই জানানো যাবে এই সময়ের মধ্যে।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 16 December 2025 12:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্বঘোষণা মতো মঙ্গলবার সকালেই প্রকাশিত হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা (Draft List)। সেই সঙ্গে শুরু হয়ে গেল টানা এক মাসের আপত্তি ও অভিযোগ জানানোর পর্ব। কারও নাম বাদ পড়লে, কোথাও বানান বা তথ্যগত ভুল থাকলে—সব অভিযোগই জানানো যাবে এই সময়ের মধ্যে।
আর সেই অভিযোগ গ্রহণের দায়িত্বে থাকা বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) জন্য রইল কড়া নির্দেশ। আগামী এক মাস শুধু সোম-শুক্র নয়, শনি ও রবিবারও নিজ নিজ বুথে বসা বাধ্যতামূলক করল নির্বাচন কমিশন (No vacation for a month, BLOs will have to sit in booths even on Saturdays and Sundays)। অর্থাৎ ছুটি কার্যত ভুলে টানা এক মাস বুথে ডিউটি করতেই হবে তাঁদের।
কেন এই কড়াকড়ি? কমিশন (Election Commission) সূত্রের ব্যাখ্যা, বহু ভোটারই বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত বা সপ্তাহান্তেই যাঁদের ছুটি মেলে। ফলে কর্মদিবসে বুথে এসে অভিযোগ জানানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে। তাই একজন ভোটারও যাতে এই প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত না হন, সেই কারণেই শনি-রবিবারেও বিএলওদের বুথে বসার নির্দেশ।
যদিও ঠিক কোন সময় থেকে কোন সময় পর্যন্ত বিএলওরা বুথে থাকবেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট নির্দেশিকা আসেনি। তবে কাদের শুনানিতে ডাকা হতে পারে, সেই সংক্রান্ত তথ্য ভোটাররা বিএলওদের কাছ থেকেই জানতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন (ECI) জানিয়েছে, অভিযোগ জানানোর পর্ব শেষ হলে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে ভোটারদের শুনানিতেও ডাকা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
ইতিমধ্যেই ceowestbengal.wb.gov.in/asd_sir ওয়েবসাইটে, voters.eci.gov.in পোর্টালে অথবা প্লে-স্টোর থেকে ECINET অ্যাপ ডাউনলোড করে দেখে নেওয়া যাচ্ছে খসড়া তালিকায় নিজের নাম রয়েছে কি না। প্রতিটি বুথে কতজন অনুপস্থিত, মৃত, স্থানান্তরিত বা নিখোঁজ ভোটার রয়েছেন, তার বিস্তারিত তথ্যও সেখানে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল, ৫৮ লক্ষেরও বেশি নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সেই আশঙ্কায় সত্যি হয়েছে। কমিশন সূত্রের খবর, শুনানিতে প্রায় ২ কোটি মানুষকে ডাকা হতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও অভিযোগ নিষ্পত্তির গুরুদায়িত্বও সামলাতে হবে বিএলওদেরই।