কেন্দ্রীয় সংস্থার এই আর্জি শুনে বিচারপতি ঘোষ জানান, বিষয়টি আগামী সপ্তাহে তালিকাভুক্ত করা হবে। সেই সময়ই শুনানি শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
শেষ আপডেট: 26 November 2025 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল নেতা (TMC Leader) তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের (Jyotipriyo Mullick) জামিন বাতিলের (Bail Cancel) আবেদনে দ্রুত শুনানি চেয়ে বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হল ইডি (ED)। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের (Tirthankar Ghosh) বেঞ্চে কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁদের অবস্থান তুলে ধরে জানায়, মামলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
ইডির (ED) আইনজীবীরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, চলতি তদন্তের স্বার্থে জামিন খারিজের আবেদনটি দ্রুত শুনানি হওয়া জরুরি। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান পরিস্থিতি তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
কেন্দ্রীয় সংস্থার এই আর্জি শুনে বিচারপতি ঘোষ জানান, বিষয়টি আগামী সপ্তাহে (Next Week) তালিকাভুক্ত করা হবে। সেই সময়ই শুনানি শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
কয়েকমাস আগেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (Jyotipriyo Mullick) ওরফে বালু। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে গ্রেফতার করে ইডি (ED)। অভিযোগ ছিল, খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন রেশন বিতরণে বিপুল অনিয়মের (Ration Scam) সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ তদন্তের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদালত থেকে জামিন পান। সেই জামিন খারিজের আর্জি নিয়েই আরও বেশি তৎপরতা দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডির আশঙ্কা, জামিনে মুক্তির পর অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারেন। আদালতে ইডি দাবি করেছে, বাইরে থাকলে তাঁরা সাক্ষীদের ভয় দেখাতে বা প্রমাণ লোপাট করতে পারেন। সেই কারণেই তাঁদের জামিন বাতিল করার আর্জি জানানো হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টের (Calcutta High Court) আসন্ন শুনানি রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতার (TMC Leader) বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যে শুধু আইনি নয়, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তা যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে, এমনই ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের।
চলতি মাসের শুরুর দিকেই আবার সল্টলেকে (Saltlake) নিজের বাড়ির সামনে হামলার (Attack) মুখে পড়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আচমকাই তাঁকে ঘুষি মেরে দেন। পেটে পাঁজরের নিচে আঘাত করেন, সেই ধাক্কায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ওই যুবককে গ্রেফতার করে।
সূত্রে দাবি, হামলাকারী এতটাই উগ্র আচরণ করছিল যে, কয়েক জন মিলে চেষ্টা করেও তাঁকে থামানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরে কোনওক্রমে তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। অভিযোগ নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা পুলিশ কর্মীর সামনেই এই হামলা হয়।
গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত সম্পর্কে খোঁজখবর নেন জ্যোতিপ্রিয় নিজে। সূত্রের খবর, ওই যুবককে তিনি কোনও দিন দেখেননি। বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দেখা যায়, দুপুর তিনটে থেকেই বাড়ির সামনে ঘোরাফেরা করছিলেন ওই ব্যক্তি। মাঝেমধ্যে সরে গেলেও পরে আবার ফিরে আসেন এবং জ্যোতিপ্রিয় পৌঁছনোর পরই হামলা চালান।