পার্থও হয়তো দলের মনোভাব বুঝতে পারছেন। কিন্তু দল তাঁকে ঝেড়ে ফেলতে চাইলেও আঁকড়ে ধরার চেষ্টা প্রথম দিন থেকেই শুরু করে দিয়েছেন।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
শেষ আপডেট: 12 November 2025 20:08
তিন বছর তিন মাস ১৯ দিন পর মঙ্গলবার জেল হেফাজত থেকে বাড়ি ফিরেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতি করেছেন। তার মধ্যে প্রায় ৩ বছর উপোস করে থাকা। তাই হয়তো রাজনীতির খিদে তো রয়েছেই। সেই সঙ্গে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়ার তাড়নাও। তাই দেরি না করে বুধবারই পার্থ জানিয়ে দিলেন, তাঁর আগুন নেভেনি, ফের বিধানসভায় যাবেন।
এই ছবির একটা বিপরীত ছবিও রয়েছে। তা হল, ২৪ ঘণ্টা হয়ে গেছে পার্থ বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু তৃণমূলের কোনও বড়, মেজ, সেজ বা ছোট নেতাও নাকতলার বাড়ির ছায়া পর্যন্ত মারাননি। বরং দলের মধ্যে একটা ধারণা চেপে বসে রয়েছে যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কারণে বিশেষ করে তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের কারণে তৃণমূল যা বেইজ্জত হয়েছে, তা আর কারও জন্য হয়নি।
পার্থও হয়তো দলের মনোভাব বুঝতে পারছেন। কিন্তু দল তাঁকে ঝেড়ে ফেলতে চাইলেও আঁকড়ে ধরার চেষ্টা প্রথম দিন থেকেই শুরু করে দিয়েছেন। এবং এ প্রশ্নও তুলেছেন, রেশন দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে জেলে গেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুও। তাঁকে যদি দল ফের জায়গা দিতে পারে, তিনি নন কেন?
এদিন দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পার্থ বলেন,“মনে রাখবেন, আমি হাত তুলবার জন্য বিধায়ক হইনি, লড়াই করে বিধায়ক হয়েছি। আমি কিন্তু বিরোধী দলনেতাও ছিলাম। বাম আমলে ৩০ আসন নিয়েও বিধানসভায় লড়েছি। পাঁচবার বেহালার মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছেন। সুতরাং এ আগুন নেভে নাই। আমি আবার বিধানসভায় যাব, আমার কথা বলতে!”
কিন্তু তিনি তো এখন আর মন্ত্রী নন! দলও তাঁকে সাসপেন্ড করেছে! তাহলে বসবেন কোন আসনে? প্রশ্নে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন পার্থ। হাসিমুখে জবাব, “আমি পদ্মাসনে যাব না, অধ্যক্ষ যে আসন দেবেন, তাতেই বসব। বালু কোন আসনে বসছে?”
রাজ্য রাজনীতি তথা তৃণমূলের জন্য তাঁর অবদান বোঝাতে পার্থ এদিন পুরনো প্রসঙ্গও টেনেছেন। তাঁর কথায়, “এই মেয়াদে সাড়ে তিন বছর বিধানসভায় যেতে পারিনি। বামেরা যখন বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দিচ্ছিল না, তখনও আমি বিধানসভার বারান্দায় বসে থেকেছি। দরকার হলে আবার বসব। আমি নির্বাচিত বিধায়ক, বিধানসভায় যাবই। পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায় আর আমি একসময় মুড়ি-বাদাম খেয়ে বিধানসভায় দিন কাটিয়েছি!”
বুধবার ভোরের আলো ফোটার আগেই বেহালা পশ্চিমের বিধায়কের খোলা চিঠি পৌঁছে গিয়েছে তাঁর এলাকার ভোটারদের কাছে। সেই চিঠিতে নিজেকে নির্দোষ হিসেবে দাবি করে পার্থ প্রশ্ন তুলেছেন— “আমি কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছি? আমার নামে কেউ টাকা নিয়েছে কি না, জানাতে অনুরোধ করছি।”
দলকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক চিঠি দেননি, তবে তিনি দেবেন বলেই জানিয়েছেন পার্থ। “দলকে আমি চিঠি দিইনি, কে কী লিখেছে জানি না। তবে আমি দেব,”— বলেন তিনি।
আবার ইডির বক্তব্য টেনে খানিক কৌতুকের সুরে পার্থ বলেছেন, “সুপ্রিম কোর্টে ইডি বলেছিল আমি নাকি সাঙ্ঘাতিক প্রভাবশালী। কাল বুঝলাম, কিছুটা প্রভাবশালীও বটে! কাল কিছু লোককে কাঁদতে দেখলাম। এই সাধারণ মানুষের কান্না আমি আগে দেখেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জেলায় জেলায় ঘোরার সময়। এও এক রকম ইঙ্গিত।”
সত্যি কি তাই?
এটা ঠিক যে পার্থ বাড়ি ফেরার পর সংবাদমাধ্যম এদিন হামলে পড়েছে। সংবাদমাধ্যমের কাজও তাই। কিন্তু তৃণমূলই যদি তাঁর ছায়া না মাড়ায় তাহলে পার্থ কি আর প্রাসঙ্গিকতা পাবেন। এমনিতেই বন্দিদশায় শরীরে রোগ বাসা বেঁধেছে। এখনও দু’পা ও হাত বেশ ফোলা। তবু পার্থ ফিরতে চান। জলদি ফিরতে চান। যেন খুব তাড়া আছে তাঁর।