এক বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি চালায় ইডি। সেই অভিযানেই বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হয় ৬৫ লক্ষ টাকা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু নথি ও মোবাইল ফোনও।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 September 2025 11:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য অনুমোদিত বালি খাদান (Sand Mining) ঘিরে ফের বড়সড় বিতর্ক। সরকারি খাতায় যে খাদান থেকে রাজস্ব আসার কথা, সেখান থেকেই অতিরিক্ত বালি তুলে পাচারের (Illegal Sand Mining) অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ শুধুমাত্র এফআইআর দায়ের করে দায় সেরেছে বলে অভিযোগ। তবে এবার সেই এফআইআর-এর (FIR) ভিত্তিতেই এবার সরাসরি তদন্তে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি (ED)।
এই প্রেক্ষিতে মেদিনীপুরে (Medinipur) সৌরভ রায় নামের এক বালি ব্যবসায়ীর বাড়িতে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তল্লাশি (Search Operation) চালায় ইডি। সেই অভিযানেই বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হয় ৬৫ লক্ষ টাকা। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু নথি ও মোবাইল ফোনও।
একই দিনে ইডির নজরে ছিল আরও একটি বাড়ি। ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের (Gopiballavpur) নয়াবসানে জিডি মাইনিংয়ের কর্মী শেখ জহিরুল আলির বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় আরও ২৫ লক্ষ টাকা। স্থানীয়দের দাবি, একসময় সাইকেল সারাতেন জহিরুল, পরে ভিলেজ পুলিশে চাকরি পান। এখন তাঁর অট্টালিকা এলাকায় চর্চার বিষয়।
ইডি মনে করছে, লিজ নিয়ে একাধিক খাদান থেকে নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত বালি তোলা হয়েছে। এতে কোটি কোটি টাকার নয়ছয় হয়েছে বলে অভিযোগ। এখন প্রশ্ন উঠছে - এই বেআইনি মুনাফা ঠিক কার কার ঘরে পৌঁছেছে? যাদের বাড়ি থেকে টাকার পাহাড় মিলেছে শুধু তারাই লাভ করেছেন নাকি ঘুরপথে কোনও প্রভাবশালীর কাছে পৌঁছেছে সেই টাকা? এর পাশাপাশি কি কালো টাকা সাদা করার চক্রও চলছে? এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সূত্র মারফৎ আরও জানা যাচ্ছে, বর্ধমান রেঞ্জে আগেই কয়েকটি বালি বোঝাই ট্রাক আটক করেছিল পুলিশ। সেখানেই ধরা পড়ে জিডি মাইনিংয়ের নকল নথি। তার ভিত্তিতেই থানায় দায়ের হয়েছিল এফআইআর। সেই মামলাকেই হাতিয়ার করে এখন ইডি বালি পাচারের টাকার হদিস খুঁজছে।
শিক্ষক নিয়োগ থেকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি - ইডি এবং সিবিআইয়ের তদন্তে একাধিক প্রভাবশালী নাম ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। এবার বালি পাচারের জাল ঘেঁটে কি তেমন কোনও নাম উঠে আসবে? তা নিয়েই জল্পনা তুঙ্গে।