অভিযোগে বলা হয়েছে যে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানো-সহ কিছু বেআইনি কাজে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হবে।"

রবীন্দ্রনাথের ছবি পোড়ানোর দৃশ্য
শেষ আপডেট: 9 September 2025 10:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) ছবিতে আগুন লাগানো হয়েছিল। ঘটনায় মালদহের চাঁচল কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা (TMC Leader) এবি সোয়েলকে বহিস্কার করে সংগঠন। এবার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করল মালদহ জেলা পুলিশ (Malda District Police)।
সংগঠনের নেতা এবি সোয়েলকে সোমবার বহিষ্কার করার পাশাপাশি কলেজ ইউনিট ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল নেতৃত্ব।
ছাত্র পরিষদের তরফে বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘‘আমরা দেশের মহামনীষী ও বাংলার ঐতিহ্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল। সংগঠনের নীতি ও মূল্যবোধ বিরোধী কোনও কাজ বরদাস্ত করা হবে না।’’ সঙ্গে সাফ জানানো হয়েছে, বিজেপির রাজনীতি ও বাংলার স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যহত থাকবে।
মঙ্গলবার জেলা পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, "০৯/০৯/২০২৫ তারিখে এক স্থানীয় ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে চাঁচল থানায় নাসিমুল হক ওরফে এবি সয়েল (২৪ বছর), পিতা- মুকুল আলি, বাসিন্দা- চাঁচল নয়াটোলা, ডাকঘর ও থানা- চাঁচল, নামক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট মামলা শুরু করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে যে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানো-সহ কিছু বেআইনি কাজে যুক্ত ছিলেন। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হবে।"
ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তৃণমূলের মঞ্চ খুলে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার বিক্ষোভে নেমেছিল চাঁচল কলেজ ইউনিট। বাংলার মনীষীদের ছবি হাতে নিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন ছাত্র পরিষদের সদস্যেরা। সেই সময় মোদী-শাহের ছবি পোড়াতে গিয়ে ভুল করে রবীন্দ্রনাথের ছবিতেও আগুন লেগে যায়। তবে ঘটনাটি নজরে আসতেই তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানো হয়।
কিন্তু ততক্ষণে ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ করেন, ‘‘এটাই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের আসল চেহারা। বাংলার ‘অস্মিতা’র নামে কি রবীন্দ্রনাথের ছবি পোড়ানোই তৃণমূলের বাঙালি প্রেম?’’
বিতর্ক নিয়ে জেলা সভাপতি প্রসূন রায় বলেন, ‘‘আমরা ছোট থেকে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান পড়ে মানুষ হয়েছি। যদি কেউ ভুলবশত এ রকম কাজ করে থাকেন, সংগঠন কখনও তা মেনে নেবে না। কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।’’