জানা গিয়েছে, পাঁচটি নির্বাচনী রাজ্যে দায়িত্বে থাকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষভাবে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। বাহিনীর সদর দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 March 2026 21:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Force) জন্য জারি হল কড়া নির্দেশিকা (ECI)। মুর্শিদাবাদে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ঘটনায় বাহিনীর সাত জন সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরই এই নতুন নির্দেশ সামনে এল।
জানা গিয়েছে, পাঁচটি নির্বাচনী রাজ্যে দায়িত্বে থাকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষভাবে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। বাহিনীর সদর দফতর থেকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের কাছে এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যরা শুধুমাত্র নিজেদের বাহিনীর গাড়ি থেকে সরবরাহ করা খাবার অথবা নির্বাচন কমিশন বা জেলা প্রশাসনের দেওয়া খাদ্য প্যাকেটই গ্রহণ করতে পারবেন। এর বাইরে কোনওভাবেই অন্য উৎস থেকে খাবার নেওয়া যাবে না।
বিশেষ করে সাধারণ মানুষ বা কোনও রাজনৈতিক দলের তরফে দেওয়া খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিষয়ে কোনও রকম শিথিলতা দেখানো হবে না বলেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়।
বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকী কোনও ছবি বা প্রতিবেদন সামনে এলে, যেখানে এই নির্দেশ লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলবে, সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।
প্রশাসনের মতে, ভোটের সময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই বাহিনীর সদস্যদের আচরণ এবং চলাফেরার উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। কোনওভাবেই যাতে পক্ষপাতিত্ব বা প্রভাবের অভিযোগ না ওঠে, তার জন্যই এই কড়াকড়ি। মুর্শিদাবাদের ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদে সাত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ইফতার পার্টিতে যান। সেই অভিযোগ পেয়েই সোজা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কমিশন। অভিযুক্ত সাত জওয়ানের মধ্যে তিনজনকে প্যারা মিলিটারির কাস্টাডি দেওয়া হয়েছে সাত দিনের জন্য। দু’জনকে সতর্ক করে বাকি দু’জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয় ওই সাত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে অন্য রাজ্যেও সরিয়ে দিয়েছে কমিশন।
সব মিলিয়ে ভোটের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর নজরদারি আরও কড়া হল বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।