বাস্তবে দেখা গিয়েছে কিছু ক্ষেত্রে চাকরিহারা শিক্ষকদের নামেও ভোটের ডিউটির নির্দেশ গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে কমিশনের ব্যাখ্যা, পুরনো তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতেই এমন ভুল হয়েছে। তবে দ্রুত সেই তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 26 March 2026 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে আরও এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। এবার ভোট পরিচালনার কাজে যুক্ত করা হচ্ছে চিকিৎসকদেরও (Doctors on Election Duty)। সরকারি হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসকের হাতে পৌঁছেছে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চিঠি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত বা চাকরি হারানো শিক্ষকদের কোনওভাবেই ভোটের কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে এমনিতেই রোগীর চাপ অত্যন্ত বেশি। বহু জায়গায় চিকিৎসক ঘাটতির অভিযোগও রয়েছে। তার মধ্যে ভোটের দায়িত্ব পড়লে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল বলেই মনে করছেন অনেকেই। যদিও কমিশনের দাবি, এই দায়িত্ব বণ্টন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাস্তবে দেখা গিয়েছে কিছু ক্ষেত্রে চাকরিহারা শিক্ষকদের নামেও ভোটের ডিউটির নির্দেশ গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে কমিশনের ব্যাখ্যা, পুরনো তথ্যভাণ্ডারের ভিত্তিতেই এমন ভুল হয়েছে। তবে দ্রুত সেই তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
কমিশন আরও জানিয়ে দিয়েছে, কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মীকেও ভোটের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু জায়গায় এই নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে এমন অভিযোগ সামনে আসতেই সংশ্লিষ্ট জেলাশাসককে বদলি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
এদিকে আরামবাগের প্রফুল্ল চন্দ্র সেন সরকারি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতালে একসঙ্গে ৪৯ জন চিকিৎসককে ভোটের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সহকারী অধ্যাপক-সহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে কমিশনের একের পর এক সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিশেষ করে চিকিৎসকদের ভোটের কাজে নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।