এক ধাক্কায় ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের নৈহাটি থানার আইসি (Naihati IC) এবং কলকাতা পুলিশের কসবা থানার ওসি-সহ (Kasba OC) একাধিক প্রভাবশালী অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনও রকম আপস করা হবে না।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, সোনা পাপ্পু
শেষ আপডেট: 11 April 2026 18:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের দায়ে এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থাকলে যে কমিশন ছেড়ে কথা বলবে না, তা প্রথম থেকেই বলে এসেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। ভোটের ১২ দিন আগে তা হাতে-কলমে আরও একবার প্রমাণ করে দিল নির্বাচন কমিশন। এক ধাক্কায় ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের নৈহাটি থানার আইসি (Naihati IC) এবং কলকাতা পুলিশের কসবা থানার ওসি-সহ (Kasba OC) একাধিক প্রভাবশালী অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি রক্ষায় কোনও রকম আপস করা হবে না।
প্রার্থীকে 'লিফট' দিয়ে কপাল পুড়ল নৈহাটির আইসির
ব্যারাকপুরের রাজনীতির ময়দানে নৈহাটি থানার আইসি মহাবীর বেরার ভূমিকা নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনে। অভিযোগ ছিল, নির্বাচনী আচরণবিধি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি নিজের গাড়িতে করে তৃণমূল প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, এসডিও দফতরে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যানও। এই ঘটনাকে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতার পরিপন্থী’ হিসেবে দেখে কমিশন। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে মহাবীরকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এবার তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেবনাথ সাধুখাঁকে।
অন্য দিকে, দক্ষিণ কলকাতার কসবা থানার ওসি বিশ্বজিৎ দেবনাথকে ঘিরেও পরিস্থিতি বেশ তপ্ত ছিল। এলাকার 'কুখ্যাত' বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-কে আড়াল করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পুলিশের খাতায় ‘দাগি অপরাধী’ তকমা থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে অপরাধীদের তালিকা থেকে পাপ্পুর (Sona Pappu) নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওসির বিরুদ্ধে। মজার বিষয় হল, সোনা পাপ্পু এখনও অধরা থাকলেও নিয়মিত তিনি ফেসবুক লাইভে এসে ধরা দিচ্ছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই বিশ্বজিৎ দেবনাথকে সাসপেন্ড করেছিল লালবাজার। শনিবার তাঁর জায়গায় সৌরভ ভট্টাচার্যকে আনল কমিশন।
শনিবার কেবল কসবা বা নৈহাটি নয়, একযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশের বটতলা, উল্টোডাঙা এবং ফুলবাগান থানার আধিকারিকদেরও। বাদ পড়েনি শিল্পাঞ্চলের ভাটপাড়া থানার আইসি-ও। কমিশনের জারি করা তালিকায় দেখা যাচ্ছে, যেখানেই প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানেই নয়া অফিসার নিয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলা হয়েছে।