কসবা বিধানসভা কেন্দ্রে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের 'সেক্টর অফিসার' ও 'সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট' হিসেবে নিয়োগ করার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন কমিশনের (CEO) দ্বারস্থ হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 11 April 2026 18:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) কসবা বিধানসভা (Kasba Assembly) কেন্দ্রে সেক্টর অফিসার ও সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক । নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী দায়িত্বে বসানোর অভিযোগ তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া (Shishir Bajoria)।
বিজেপির অভিযোগ, গত ১০ এপ্রিল কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার পূর্ণিমা দে একটি নির্দেশিকা জারি করেন। সেই তালিকায় এমন কিছু নাম রয়েছে যারা আসলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের অধীনে থাকা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের আইএসজিপিপি সেলের চুক্তিভিত্তিক কর্মী।
বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর স্তরের কাজে কোনওভাবেই চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগ করা যায় না। স্থায়ী সরকারি কর্মীদের মতো এই কর্মীদের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা বা চাকরির সুরক্ষা থাকে না। এর পাশাপাশি, 'সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট' বা 'অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্টর অফিসার' এই ধরণের পদমর্যাদা কমিশনের স্বীকৃত কাঠামোর মধ্যেই পড়ে না দাবি করেছে বিজেপি।
বিজেপির দাবি, স্ক্রুটিনি এড়াতে কৌশলে এই নামগুলি ব্যবহার করা হয়েছে। বিজেপি নেতার চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, এই একই ব্যক্তিদের আগে 'সেক্টর অফিসার' হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। পরে আপত্তি ওঠায় তাদের কাজের ধরণ বা দায়িত্ব পরিবর্তন না করেই কেবল পদ বদলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে আদর্শ আচরণবিধির (MCC) লঙ্ঘন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বাধা হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির।
কমিশনের কাছে বিজেপি এই বিষয়ে কয়েকটি আবেদন জানিয়েছে। বাজোরিয়ার চিঠি থেকে জানা গিয়েছে, বিজেপির পক্ষ থেকে মোট তিনটি দাবি করা হয়েছে। প্রথমত, রিটার্নিং অফিসারের ওই নির্দেশিকা অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে বলে জানিয়েছে বিজেপি। এছাড়াও, পেশাগত অসদাচরণ ও পক্ষপাতিত্বের দায়ে কসবার রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছে তারা। এখানেই না থেমে বিজেপির আরও দাবি, শুধুমাত্র যোগ্য এবং স্থায়ী সরকারি কর্মীদেরই নির্বাচনী কাজে নিয়োগ করতে হবে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে একই অভিযোগ করেছেন।
Illegal appointment of Contractual Staff as Sector Officers/Assistants in 149-Kasba Assembly Constituency.
It's nothing but a blatant and calculated attempt by the District Administration of South 24 Parganas to subvert the democratic process in the Kasba Assembly Constituency… pic.twitter.com/e4LJFD8qyy— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) April 11, 2026
অন্যদিকে, ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী আজ, ১১ এপ্রিল বিকেল ৩টে নাগাদ আলিপুরের নিউ ট্রেজারি বিল্ডিংয়ে সমস্ত সেক্টর অফিসার (SO) এবং সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্টদের (SA) নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন রিটার্নিং অফিসার। মোট ২১টি সেক্টরের জন্য নিয়োগ করা অফিসারদের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। ভোটের মুখে এই নিয়োগ বিতর্ক কসবা বিধানসভা এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।