আবাসনে বুথ সংক্রান্ত ইস্যুতে মঙ্গলবারও পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। ফের একবার রাজ্যের ছয় জেলার ডিইও-কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এগুলি হল - দুই ২৪ পরগনা, দুই কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 2 December 2025 19:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের এসআইআরের (West Bengal SIR) কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু প্রতিনিয়ত নানা নির্দেশ দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। সোমবার ডিইও-দের (DEO) বিশেষ কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার 'প্রোজেনি ম্যাপিং' (Progeny Mapping) সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হল। পাশাপাশি মৃত এবং ডুপ্লিকেট ভোটার (Dead and Duplicate Voters) নিয়েও তথ্য দিয়েছে সিইও দফতর।
শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল চারটে পর্যন্ত মৃত ভোটার ২২ লক্ষ ২৮ হাজার, স্থানান্তরিত ১৬ লক্ষ ২২ হাজার, ডুপ্লিকেট ১ লক্ষ ৫ হাজার এবং নিঁখোজ ভোটার ৬ লক্ষ ৪১ হাজার। আর মোট আনকালেক্টেবল ফর্ম ৪৬ লক্ষ ২০ হাজার। এই তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি কমিশনের পক্ষ থেকে ডিইও-দের বিশেষ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেটি হল মূলত 'প্রোজেনি ম্যাপিং' (Progeny Mapping) নিয়ে।
কমিশনের নির্দেশ - সবচেয়ে বেশি প্রোজেনি ম্যাপিং (Progeny Mapping) যে সব বুথে হয়েছে সেগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে। যে সব বুথে সবচেয়ে বেশি অনলাইন ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে, সেগুলিকেও স্ক্রুটিনির আওতায় আনতে হবে।
'প্রোজেনি ম্যাপিং' কী
এর অর্থ, যদি কোনও ভোটারের নাম ২০০২-এর ভোটার তালিকায় না থাকে তাহলে সে যদি নিজের বাবা, ঠাকুরদার নাম দিয়ে ফর্ম ফিল আপ করিয়েছে।
এদিকে আবাসনে বুথ সংক্রান্ত ইস্যুতে মঙ্গলবারও পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। ফের একবার রাজ্যের ছয় জেলার ডিইও-কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এগুলি হল - দুই ২৪ পরগনা, দুই কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলি। যে সব আবাসনে ৮০০ বা তার বেশি ভোটার রয়েছেন এমন আবাসনের খোঁজ করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশকিছু রাজনৈতিক দল তাদের মতামত জানিয়েছে। সেই মতগুলিকেই সামনে রেখে পুনরায় খোঁজ খবর করতে বলেছে কমিশন। আগামী ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি আবাসন কমপ্লেক্সের (Private Complex) ভিতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (ECI Ganesh Kumar) চিঠিও দেন তিনি। মমতার যুক্তি - ভোটকেন্দ্র সবসময় সরকারি বা আধা-সরকারি ভবনে স্থাপিত হওয়াই নিয়ম। এতে জনসাধারণের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। বেসরকারি প্রাঙ্গণ ব্যবহারে প্রশ্ন উঠতে পারে নিরপেক্ষতার। ‘সুবিধাভোগী’ বনাম ‘অসুবিধাভোগী’ - এই বিভাজন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তারপরও ইসিআই (ECI) বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে।