পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী SIR প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের কড়া সতর্কতা! আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 21 January 2026 22:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির’ (Logical discrepancy) তালিকা প্রকাশ হবে। তার পর হিয়ারিং তথা সংশোধন প্রক্রিয়াকে (SIR, 2026) কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে যাতে কোনওরকম অশান্তি বা প্রশাসনিক গাফিলতি না ঘটে, সে জন্য এবার সরাসরি রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তাদের চিঠি দিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। রাজ্যের মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার নগরপালকে পাঠানো ওই চিঠিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বার্তা ও হুঁশিয়ারি (Gyanesh Kumar Message to West Bengal Citizen)
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এদিন বাংলার নাগরিকদের উদ্দেশেও স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কেউই যেন নিজের হাতে আইন তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর নজর রাখবে”। এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে চলতি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ (Logical Discrepancy) ও ‘আনম্যাপড’ (Unmapped) ভোটারদের বিষয়েও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে এই দুই শ্রেণির ভোটারদের নাম প্রকাশ্যে টাঙানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে (CEO) পাঠানো নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস, তালুক স্তরের দফতর এবং শহরের ওয়ার্ড অফিস-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জনসমক্ষে এই তালিকা টাঙাতে হবে। উদ্দেশ্য একটাই—ভোটাররা যাতে সহজেই জানতে পারেন তাঁদের নাম কোনও সমস্যাজনক তালিকায় রয়েছে কি না।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, যাঁদের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বা ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত, তাঁরা নিজেরা অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি ও আপত্তি জমা দিতে পারবেন। ওই প্রতিনিধি চাইলে বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA)ও হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভোটারের সই বা টিপসই-সহ অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক।
নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র এলাকার কাছাকাছি কোনও পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস বা ওয়ার্ড অফিস নির্দিষ্ট করে দিতে হবে, যেখানে নথি জমা ও শুনানি হবে। তালিকা প্রকাশের পর অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দেওয়া হবে দাবি বা আপত্তি জানানোর জন্য।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—শুধু নথি জমা নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে ERO বা AERO-এর মাধ্যমে শুনানি বাধ্যতামূলক। সেই শুনানি সরাসরি অথবা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে হতে পারে। নথি গ্রহণ ও শুনানির সার্টিফিকেট দিতে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে, যা পরে BLO অ্যাপে আপলোড করা হবে।
নথি হিসেবে মাধ্যমিকের (দশম শ্রেণি) অ্যাডমিট কার্ডও গ্রহণযোগ্য, যদি তাতে জন্মতারিখ উল্লেখ থাকে—এ কথাও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে কমিশনের নির্দেশে।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, আইনি সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই এই কড়া অবস্থান নির্বাচন কমিশনের—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির মধ্যেই এখন দেখার, বাংলায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ ইস্যু কোন পথে এগোয়।