যে জেলাগুলিকে সমস্যাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে কী কী ত্রুটি বা অসঙ্গতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবেন স্পেশ্যাল অবজার্ভাররা। মাঠপর্যায়ে স্ক্রুটিনি শেষে সেই রিপোর্ট সিইও-র সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

মনোজ আগরওয়াল
শেষ আপডেট: 21 January 2026 20:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। ইতিমধ্যে যে রোল অবজার্ভার (Roll Observer) ও স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভাররা (Special Roll Observer) রাজ্যে কাজ করছেন, তাঁদের পাশাপাশি নতুন করে আরও ১২ জন স্পেশ্যাল অবজার্ভার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal) এই সমস্ত রোল অবজার্ভারদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন।
কয়েকটি জেলায় এসআইআর প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়ম মেনে হচ্ছে না - এমন অভিযোগ উঠে আসার পরই কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ, এই জেলাগুলিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজ সঠিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়নি। সেই কারণেই মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করতে নতুন করে রোল অবজার্ভার পাঠানো হচ্ছে।
এই মুহূর্তে দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে। তবে এসআইআর নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal SIR)। শুনানির নোটিস পাওয়ার পর মৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছে চিঠি পৌঁছনো, সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ, বিএলওদের অসন্তোষ - সব মিলিয়ে বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়া জাতীয় স্তরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বহু জায়গায় নিয়ম মেনে কাজ হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই সমস্ত বিষয় নিয়েই বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।
যে জেলাগুলিকে সমস্যাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে কী কী ত্রুটি বা অসঙ্গতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবেন স্পেশ্যাল অবজার্ভাররা। মাঠপর্যায়ে স্ক্রুটিনি শেষে সেই রিপোর্ট সিইও-র সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কমিশনের বক্তব্য, মূল লক্ষ্য হল এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা।
এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের (ECI) সামনে নতুন চাপ তৈরি করেছে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court SIR Order) নির্দেশ। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং তা জনসমক্ষে টাঙিয়ে রাখতে হবে। তবে এই তালিকা কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কমিশনের তরফে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে মনে করা হচ্ছে, এসআইআর শুনানির শেষ দিন ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পিছিয়ে যেতে পারে। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর সেই সময়সূচি বদলানোর সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এই বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যাঁদের তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, সেই প্রায় ৯৪ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের কাছে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানো শুরু করেছে কমিশন। তবে শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর আগের মতোই প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের তালিকা প্রকাশ করে সকলকেই নোটিস পাঠানো হতে পারে বলেও সূত্রের ইঙ্গিত। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েও বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।