
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 28 November 2025 23:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে চলতি সংঘাত শুক্রবার আরও তীব্র আকার নিল। তৃণমূলের সংসদীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বৈঠকের পরই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এক্স হ্যান্ডেলে–এ বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে ‘নির্বাচিত’ বা সিলেকটিভ তথ্য ফাঁস করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। অর্থাৎ কমিশন আগু পিছু বাদ দিয়ে বেছে বেছে তথ্য ফাঁস করছে বলে তাঁর অভিযোগ।
অভিষেক লিখেছেন, “নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে তথ্য ফাঁস করছে, যেন প্রমাণ করা যায় যে আজ আমাদের তোলা প্রশ্নের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট জবাব দেওয়া হয়েছে। এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যে। যদি সত্যিই কমিশনের লুকোনোর কিছু না থাকে, তবে প্রমাণ হিসেবে দাবি করা সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও নথি প্রকাশ্যে আনুক—এক মুহূর্ত দেরি নয়। তা না হলে এটা কেবলমাত্র তাঁদের অসৎ উদ্দেশ্যই প্রমাণ করবে।”
The Election Commission is deliberately planting selective leaks to falsely claim that they have provided a point-by-point rebuttal to the issues raised by the AITC delegation today. These assertions are not just misleading, they are OUTRIGHT LIES. If the EC truly has nothing to…
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) November 28, 2025
তিনি আরও সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা যথেষ্ট ডিজিটাল প্রমাণ রেখেছি, যাতে বোঝানো যায়—কীভাবে বিকৃত ও সাজানো লিকের মাধ্যমে সত্যিকে আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াইয়ে নামার আগে দু’বার ভাববেন।”
অভিষেকের কটাক্ষ, “যদি গল্প ফাঁস করার মতো শক্তি থাকে, তবে পাঁচটি সোজা প্রশ্নের জবাব দিতে এত অসুবিধা কেন? সময় শুরু হল এখন থেকেই!”
কী ছিল তৃণমূল প্রতিনিধি দলের পাঁচটি প্রশ্ন?
শুক্রবার সকালে তৃণমূলের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে। এরপর লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক শতাব্দী রায় জানান, তাঁরা কমিশনের সামনে পাঁচটি স্পষ্ট প্রশ্ন রেখেছেন—
শতাব্দী রায়ের দাবি, “কমিশন বিজেপিকে সুবিধা দিতে উঠে-পড়ে লেগেছে। বিরোধীদের উদ্বেগ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হচ্ছে।”
কমিশনের পাল্টা জবাব: ‘অযাচিত প্রভাব খাটানো হচ্ছে’
সূত্রের দাবি, কমিশন তৃণমূলের অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে—ডিসেম্বরের ৯ তারিখে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে কোনও মন্তব্য বা দাবি স্বীকৃত নয়। তার আগে BLO, ERO বা DEO–দের কাজে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা না করতে তৃণমূলকে স্পষ্ট সতর্ক করা হয়েছে। এখানে জানিয়ে রাখা ভাল, এই কথাগুলো কিন্তু কমিশনের কোনও মুখপাত্র সরকারি ভাবে বলেননি। এগুলো অফ দ্য রেকর্ড সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।
কমিশন সূত্রের আরও বক্তব্য—“৩২৬ ধারা অনুযায়ী বিদেশিরা ভোট দিতে পারে না। তাই মৃত, স্থানান্তরিত বা ভুয়ো ভোটারের তথ্য যাচাই করতে BLO–দের কাজ চালাতে দিতে হবে।” এছাড়া, BLO–দের নিরাপত্তায় রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তার কাছে আলাদা নির্দেশও পাঠানো হয়েছে।
নতুন পদক্ষেপ: বিশেষ রোল অবজারভার নিযুক্ত
SIR নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় পশ্চিমবঙ্গের জন্য একজন বিশেষ রোল অবজারভার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে ১২ জন রোল অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কলকাতার CEO দফতরে নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ায় তা আরও সুরক্ষিত ভবনে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন বাড়ছে উত্তেজনা?
গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে SIR নিয়ে গুরুতর আশঙ্কা জানান। বহু BLO–র মৃত্যুর খবর, তথ্য সংগ্রহে বিশৃঙ্খলা, চাপ—সব মিলিয়ে তৃণমূল SIR–কে “পক্ষপাতদুষ্ট এবং বিপজ্জনক” বলে আক্রমণ করছে।
শুক্রবারের বৈঠকের পর তৃণমূলের ক্ষোভ আরও বাড়ল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আউটরাইট লাইস’ মন্তব্য রাজনৈতিক সংঘর্ষকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সংঘাত দিল্লি পর্যন্ত গড়াতে পারে।
তৃণমূলের মধ্যে তৎপরতা বাড়ছে
কমিশনের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেই SIR নিয়ে জেলা পর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে তৃণমূল অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাস শুরু করেছে। অভিষেক ইতিমধ্যেই ৯ জন নেতাকে জেলার দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। নির্দেশ—“দলের অফিস নয়, ওয়ার রুম থেকে কাজ করতে হবে।”
২০২৬–এর নির্বাচন চক্র ঘনিয়ে আসায় বুথ–স্তরের সংগঠন শক্ত করতে এটি তৃণমূলের বড় পদক্ষেপ বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।