বিএলও-দের অ্যাপে যে অনশন আনা হয়েছে তা এসেছে রি-ভ্যারিফিকেশনের জন্য। যে ভোটারদের ক্ষেত্রে কোনও ছোটখাটো ভুল রয়েছে তা নিজ দায়িত্বে সেই অপশন থেকেই ঠিক করে দিতে পারবেন বিএলও, একইসঙ্গে বুঝিয়ে দেবেন যে - এই ভোটারের হিয়ারিংয়ের প্রয়োজন নেই।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 December 2025 16:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে এসআইআরের (West Bengal SIR) খসড়া তালিকা (Draft List) প্রকাশের পর বিএলও-দের অ্যাপে নতুন অপশন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই অপশন থেকে ছোটখাটো কোনও ভুল ঠিক করা যাবে। সেটা করতে হবে বিএলও-দেরই। মনে করা হচ্ছে, এই অপশনের ফলে হিয়ারিংয়ের সংখ্যা কমতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে আগেই জানা গেছিল, প্রকাশিত খসড়া তালিকায় (Draft List) মোট ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫১ হাজার ১৭৩ জনের ক্ষেত্রে কোনও না কোনও তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে মনে করা হচ্ছে, সংখ্যাটা কমে ১ কোটি ৩৬ লক্ষের আশেপাশে থাকতে পারে। কিন্তু বিএলও-দের অ্যাপে নতুন অপশনের কারণে সেই সংখ্যাও কমতে পারে বলে অনুমান।
কোন ক্ষেত্রে কত অসঙ্গতি
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম নেই বা সেই ভোটার তালিকায় বাবা, মা, দাদু, দিদা বা পরিবারের কারও নাম নেই (Progeny Voters), এমন ২৩ লক্ষ ৬৪ হাজার ৩০ জনের অসঙ্গতি রয়েছে। যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি এমন ১৯ লক্ষ ৩৯ হাজার ২৫০ জনের ক্ষেত্রেও অসঙ্গতি রয়েছে।
৪৫ বছর কেন? কারণ, যাঁদের বয়স এখন ৪৫ তাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার কথা। ২৩ বছর আগে শেষ বার এসআইআর হয়েছে রাজ্যে। কারও বয়স এখন ৪৫ হলে ২০০২ সালে তাঁর বয়স ছিল ২২ বছর। ১৮ বছর বয়সে ভোটার তালিকায় নাম ওঠার কথা। কিন্তু ৪৫ বছর বয়স হলেও যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না বা ২০০৬ সালে বিধানসভা ভোটের সময়ও যাঁদের নাম ভোটার লিস্টে ওঠেনি, তাঁদের নিয়ে কমিশনের সন্দেহ রয়েছে।
বাবার নামে অসঙ্গতি রয়েছে এমন ৮৫ লক্ষ ১ হাজার ৪৮৬ জনের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি রয়েছে। আবার বাবার বয়স নিয়ে ধন্দ রয়েছে এমন ভোটারের সংখ্যাও ১৯ লক্ষর বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ১০ লক্ষ ৭৬ হাজার ৯৮১ জন ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর। একইভাবে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছর এমন ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৭৫।
এছাড়াও ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৮১১ জনের ক্ষেত্রে ভোটার লিস্টে ঠাকুরদার সঙ্গে বয়সে গোলমাল রয়েছে। একইভাবে ১২ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪০ জন ভোটারের ক্ষেত্রে লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল তথ্য রয়েছে।
বিএলও-দের অ্যাপে যে অনশন আনা হয়েছে তা এসেছে রি-ভ্যারিফিকেশনের জন্য। যে ভোটারদের ক্ষেত্রে কোনও ছোটখাটো ভুল রয়েছে তা নিজ দায়িত্বে সেই অপশন থেকেই ঠিক করে দিতে পারবেন বিএলও, একইসঙ্গে বুঝিয়ে দেবেন যে - এই ভোটারের হিয়ারিংয়ের প্রয়োজন নেই। তবে এরপর যদি ওই সংশ্লিষ্ট ভোটারের ক্ষেত্রে কোনও গড়মিল বের হয়, তার দায় বর্তাবে বিএলও-দের ওপরই।