বাংলাদেশে ভারত বিরোধী একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার পিছনে রয়েছে পাকিস্তানের চর সংস্থা আইএসআই।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন জেনারেল, সেনাকর্তা ও আইএসআই অফিসাররা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর উপর প্রভাব খাটাচ্ছেন।
শেষ আপডেট: 19 December 2025 13:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে ভারত বিরোধী একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার পিছনে রয়েছে পাকিস্তানের চর সংস্থা আইএসআই। পাকিস্তানের আইএসআই বাংলাদেশের জামাত-ই-ইসলামি নামে কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠনকে কলের পুতুল বানিয়ে এই খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনটাই মত প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রি। তাঁর মতে, মৌলবাদী ইসলামি রাজনৈতিক দল জামাত-ই-ইসলামি বাংলাদেশে সক্রিয় কাজ করলেও তাদের শক্তির নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তান।
জামাত-ই-ইসলামি তাই করছে পাকিস্তান যা চায়। এবং জামাতিরা যা চায়, তাতে মদত জোগাচ্ছে পাকিস্তান। পাকিস্তান চাইছে, ফের আগের মতো বাংলাদেশের উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক। তারাই চালনা করতে চায় বাংলাদেশকে। যা ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপজ্জনক। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন জেনারেল, সেনাকর্তা ও আইএসআই অফিসাররা বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর উপর প্রভাব খাটাচ্ছেন। আর তা প্রমাণ করে যে, তাদের লক্ষ্যই হল বাংলাদেশের নেতৃত্ব কবজা করা।
পাকিস্তানি সেনাকর্তারা ইতিমধ্যেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, জয়েশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তোইবার মতো জঙ্গি সংগঠনের লোকজন বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান-বাংলাদেশের অনেকদিনের লক্ষ্য হল উত্তর-পূর্ব ভারতকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। যা দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে সমূহ বিপদ। বাংলাদেশ খোলাখুলি আমন্ত্রণ জানাচ্ছে উত্তর-পূর্বের গা ঢাকা দিয়ে ঢাকা জঙ্গি সংগঠনগুলিকে। ওরা বলছে, এখানে এসো, এখান থেকে আবার কাজ শুরু করো। সবাই জানে, পরেশ বড়ুয়া এখনও ঢাকাতেই রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের পক্ষে মোটেই স্বস্তিদায়ক নয়, বলেন বীণা সিক্রি।
প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স খুবই অঙ্ক কষে এবং বিপজ্জনক ভূমিকায় আড়াল থেকে বাংলাদেশকে নির্বাচনের আগে অশান্ত করার চক্রান্ত কষে ফেলেছে। এবারের ধাঁচটা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের চেয়েও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে চলেছে। কারণ চর সংস্থা এবার খোলাখুলি নেতৃত্ব না দিয়ে ছদ্মবেশে আড়াল থেকে অশান্ত জনতাকে কলকাঠি নাড়ছে।
এই হিংসাত্মক রণক্ষেত্রে আইএসআই জামাত ও তাদের ছাত্র সংগঠন এবং মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলিকে কানে মন্ত্র দিয়েছে যে, তারা যেন গন্ডগোলের প্রথম সারিতে না থেকে, পিছন থেকে জ্বালানি ঢালতে থাকে। যাতে মনের হয় স্থানীয় লোকজনই এই হাঙ্গামা বাধাচ্ছে। কিন্তু আসল নটকুশলীরা পর্দার আড়ালে থেকে যায়। আপাত দৃষ্টিতে মনে হবে এই দাঙ্গা একেবারেই বাংলাদেশের জমি থেকে উঠে আসা। যেখানে বহির্শক্তি অন্তরাল থেকে তাকে শক্তির জোগান দিয়ে যাবে।
দেখা যাচ্ছে, হিংসার ঘটনার গতিপ্রকৃতির পিছনে পাকিস্তানের হাতের ছাপ রয়েছে। আর্থিক ও ডিজিটাল সক্রিয়তাও সুদূর পাকিস্তান থেকে আসছে। বাংলাদেশের কিছু নির্দিষ্ট মিডিয়া কণ্ঠকে আর্থিক মদত জোগায় পাকিস্তানি পাইপলাইন। এমনকী অনেক সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল যারা এই অস্থিরতাকে উৎসাহ জোগাচ্ছে, সেগুলিও চালানো হচ্ছে পাকিস্তানের মাটি থেকে। এই হ্যান্ডলগুলি থেকে ক্রমাগত ভারত বিরোধী প্রচার চালানো হচ্ছে। যাতে দেশের বিদ্রোহী যুবদের বোঝানো চলছে আওয়ামী লিগ নেত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রক্ষাকর্তা ভারত। কারণ আইএসআইয়ের কাছে বাংলাদেশ অশান্ত থাকলে ভারতকে পূর্ব প্রান্ত থেকে চাপের মধ্যে রাখা যাবে। এই কৌশলগত অঙ্ক কষেই সাধারণ নির্বাচন ঘেঁটে দেওয়াই লক্ষ্য পাকিস্তানের।