পশ্চিমবঙ্গে ভোটের তারিখ ঘোষণার আগেই বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। চলতি ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বাড়তি নজরদারি শুরু।
.jpeg.webp)
নির্বাচন কমিশন (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 13 February 2026 23:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে চলতি ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) ও আগামী বিধানসভা নির্বাচন—দু’দিককে সামনে রেখে আরও কড়া হল নির্বাচন কমিশন (ECI)। অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস এন কে মিশ্রকে (N K Mishra, Retd. IPS) রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হল শুক্রবার। তাঁকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তিনি কোনও নির্বাচনকর্মীকে কোনও নির্দেশ বা শংসাপত্র দিতে পারবেন না। সব অভিযোগ, নালিশ বা মতামত সরাসরি পাঠাতে হবে নির্বাচন সদনে (ECI Headquarters)।
এমন নজির আগেও ছিল, তবে তা ছিল শুধুই এসআইআর-সংক্রান্ত। এবার প্রথমবারের মতো তাঁকে ভোটকেন্দ্রিক বিষয়েও নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হল—যা নিয়ে ভোটের আগেই পারদ চড়েছে রাজনীতির।
কমিশনের নির্দেশ বলছে, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের চলতি ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (Special Intensive Revision) এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তদারকি করতে একজন বিশেষ অবজারভার (Special Observer) নিয়োগ করা হল। জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের (Representation of the People Act, 1950) ১৩ সিসি ধারার অধীনে এই বিশেষ অবজারভার পুরো কাজ করবেন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ, তত্ত্বাবধান ও শৃঙ্খলার মধ্যে থেকেই।

কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, বিশেষ অবজারভারের কাজ হচ্ছে—
• বর্তমান SIR প্রক্রিয়া যাতে কমিশনের নির্দেশ মেনে কঠোরভাবে হয় তা দেখা।
• সময়মত রাজ্যে এসে ভোটার তালিকা সংশোধনের অগ্রগতি, ভোটের প্রস্তুতি এবং ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ পর্যালোচনা করা।
• যা কিছু পর্যবেক্ষণ বা সুপারিশ, তা সরাসরি পাঠাতে হবে নির্বাচন কমিশনে, প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।
নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, তাঁর (N K Mishra) রাজ্য সফরকালে সবরকম সহায়তা, নথিপত্র, প্রোটোকল ইত্যাদি দেবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। তাঁর বেতন বা সাম্মানিক কমিশনের ১৭ সেপ্টেম্বর'২০২৪ এর সার্কুলার অনুযায়ী হবে বলেও জানান হয়েছে।

সবচেয়ে কড়াকড়ি নির্দেশ এসেছে নির্বাচনকর্মীদের প্রশংসাপত্র নিয়ে। বলা হয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই কোনও নির্বাচনকর্মী, ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) কিংবা অন্য কোনও নির্বাচন-সম্পর্কিত আধিকারিককে বিশেষ অবজারভার প্রশংসাপত্র দিতে পারবেন না—এই দায়িত্ব পালনকালে বা পরে।
যদি মনে হয় কোনও আধিকারিককে প্রশংসা করা প্রয়োজন, তা হলে সম্পূর্ণ কারণ-সহ প্রস্তাব পাঠাতে হবে নির্বাচন কমিশনে।
এর আগে এসআইআর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে দিল্লির নির্বাচন সদন প্রাক্তন আইএএস সুব্রত গুপ্তকে বিশেষ অবজারভার হিসাবে নিয়োগ করে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে একাধিক রোল অবজারভারকেও দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন।