জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে ফোন করে তলব করা হয়েছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্রের দাবি, মুখ্যসচিব শনিবার দিল্লি যেতে পারেন।

মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 13 February 2026 14:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকায় (Voter List) অনিয়মের অভিযোগে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) টানাপড়েন নতুন মাত্রা পেল। রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে (Nandini Chakraborty) শুক্রবার বিকেল তিনটের মধ্যে দিল্লিতে কমিশনের দফতরে হাজির হয়ে একাধিক নির্দেশ অমান্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে ফোন করে তলব করা হয়েছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে অন্য একটি সূত্রের দাবি, মুখ্যসচিব শনিবার দিল্লি যেতে পারেন।
গত অগস্টে ‘ভূতুড়ে’ ভোটারের নাম তালিকাভুক্তি নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার দুই ‘নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক’ (ERO) ও দুই সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (এইআরও)-কে সাসপেন্ড করা এবং সংশ্লিষ্ট থানায় এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্যের অনীহা নিয়ে এর আগেও তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ।
কমিশন আগেই রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে চার সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের কথাও জানানো হয়। এ ছাড়া বারুইপুর পূর্বের এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।
প্রথম চিঠি পাঠানো হয় ৫ অগস্ট। পরে ৮ অগস্ট ফের চিঠি দিয়ে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চাওয়া হয়। সেই সময়সীমার মধ্যেই রাজ্য সরকার কমিশনকে তাদের অবস্থান জানায় বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি।
তবে কমিশনের নির্দেশ যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই মুখ্যসচিবকে সরাসরি হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যের ভোটার তালিকায় (West Bengal Voter List) অবৈধ ভাবে নাম তোলা-সহ একাধিক অনিয়মের অভিযোগে চার আধিকারিক এবং এক কর্মীর বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা ডিইও-কে এফআইআর (FIR) করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই প্রেক্ষিতে এর আগে নবান্ন কমিশনকে রিপোর্ট পাঠিয়ে বলেছিল, আপাতত তারা চারজন অফিসারকে সাসপেন্ড করছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। এফআইআর যদি করতেই হয় তার জন্য আরেকটু সময় দেওয়া হোক। কিন্তু কয়েকমাস কেটে গেলেও নবান্ন এফআইআর করেনি।