আজই মূল মামলার সঙ্গে এই অন্তর্বর্তী আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা। উল্লেখ্য, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 9 February 2026 13:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলান। প্রশাসন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, পুলিশ। কিন্তু সেই মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তি হিসেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সাংবিধানিক এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন কি? এই প্রশ্নেই এ বার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন দায়ের হল।
অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সহ-সভাপতি সতীশকুমার আগরওয়ালের তরফে এই ‘ইন্টারিম অ্যাপ্লিকেশন’ দাখিল করা হয়েছে। আবেদনে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ব্যক্তি হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর শীর্ষ আদালতে হাজির হয়ে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে সওয়াল করার আইনগত অধিকার আদৌ রয়েছে কি না।
আবেদনকারীর বক্তব্য, একজন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হাজিরা ও সওয়াল সাংবিধানিক ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। আরও বলা হয়েছে, যে বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়— এটি রাজ্যের প্রশাসনিক পরিসরের বিষয়। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রশাসনিক প্রধানের অবস্থান থেকে। সেই জায়গা থেকে তিনি ব্যক্তি হিসেবে এই মামলা করতে পারেন কি না, তা নিয়েই আপত্তি।
আবেদনে এও উল্লেখ করা হয়েছে, রাজ্য সরকার যখন আগেই মামলা দায়ের করেছে এবং সিনিয়র আইনজীবীরা সেই মামলায় সওয়াল করছেন, তখন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগতভাবে মামলা করা কতটা আইনি ভাবে বৈধ, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
আজই মূল মামলার সঙ্গে এই অন্তর্বর্তী আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা। উল্লেখ্য, সোমবার সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। সেই মামলাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন। প্রধান বিচারপতির এজলাসে শুনানি হবে।
আগের শুনানিতে শীর্ষ আদালতে নিজেই সওয়াল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নামের বানান বা পদবি পরিবর্তনের মতো কারণে ভোটারদের হিয়ারিংয়ে ডাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, এতে সাধারণ মানুষকে অযথা হেনস্থা করা হচ্ছে। সেই মামলার পরবর্তী শুনানিতেই এ দিন নতুন করে আইনি বিতর্কের মোড় নিতে চলেছে বিষয়টি।
বস্তুত, অনেকেই বলাবলি করছেন, আগের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শানিত যুক্তি কমিশনের পক্ষপাতকে সামনে এনে দিয়েছে। দেশের শীর্ষ আদালত তাঁর তোলা অভিযোগগুলিকে মান্যতা দিয়ে পর্যবেক্ষণে জানায়, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির দোহাই দিয়ে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়, কমিশনকে তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।