এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর করা মামলার শুনানি হয় গত বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। সেই দিন তিন সদস্যের বিচারপতি বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি তাঁর আর্জি মেনে তাঁকেই সওয়াল করার সুযোগ দেন প্রধান বিচারপতি।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 9 February 2026 10:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এসআইআর (SIR issue) নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) করা মামলাকে ‘ড্রামা’ ও ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
সোমবার ইকো পার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। এসআইআর ইস্যুতে রাজ্যের মামলার আজ শুনানি রয়েছে সুপ্রিমকোর্টে। দিলীপ ঘোষের কথায়, “আজ যদি ওই মামলার শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত না থাকেন, যদি উকিল দিয়ে পয়সা খরচ করেই মামলা লড়তে হয়, তাহলে উনি আগে গেলেন কেন? আমরা তো আগেই বলেছি—পুরোটাই নাটক। পাবলিসিটির জন্যই এই যাওয়া। সুপ্রিম কোর্টে আজ কী হবে, সবটাই জানা।”
প্রসঙ্গত, এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর করা মামলার শুনানি হয় গত বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। সেই দিন তিন সদস্যের বিচারপতি বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি তাঁর আর্জি মেনে তাঁকেই সওয়াল করার সুযোগ দেন প্রধান বিচারপতি। সেই সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি হয়তো খুবই সাধারণ একজন মানুষ। আমি এখানে নিজের জন্য আসিনি, স্যার। আমি এসেছি সাধারণ মানুষের জন্য।” দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। যদিও বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ পদ্মশিবির।
দিলীপ ঘোষের দাবি, প্রতিবারের মতো এবারও রাজ্য সরকারের করা মামলায় মুখ পুড়বে রাজ্যের। তাঁর কথায়, এই মামলা সম্পূর্ণ ‘বেসলেস’ বা ভিত্তিহীন।
ব্যারাকপুরে এক কাউন্সিলরের মারধরে বৃদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা বলেন, “যত সমাজবিরোধী গুন্ডা-মাস্তান তৃণমূলের কাউন্সিলর হয়েছে, তাই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তৃণমূলের আমলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা শাসন বলে কিছু নেই। সে কারণেই এই সব অপরাধ দিন দিন বাড়ছে।” তাঁর অভিযোগ, শাসক দলের প্রশ্রয়েই রাজ্যে অপরাধের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী।
ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্র বারাণসীর প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। এ ব্যাপারে দিলীপের মন্তব্য, “গোটা দেশ জুড়েই ভুয়ো ভোটার রয়েছে। তবে বহু ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, এই রাজ্য থেকেই জাল নথি বানিয়ে বাইরের রাজ্যে চলে যাচ্ছে অনেকে। সব ভুয়ো ভোটার বাতিল করার জন্যই এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে।” তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে তৃণমূল আসলে বেআইনি ভোটারদের রক্ষা করতে চাইছে।
নদিয়ায় তৃণমূলের অত্যাচারে মানুষ বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন—এই অভিযোগ তুলে দিলীপ বলেন, “পার্টিটা পুরোপুরি সমাজবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। মমতা-অভিষেকের দেখার সময় নেই। ওদের এখন একটাই উদ্দেশ্য—গদি বাঁচানো।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বিরুদ্ধে দলেরই এক মহিলার আনা নিগ্রহের অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপের কটাক্ষ, “কংগ্রেস তো ডুবেই গেছে। কোথাও অবৈধ কাজ হলে প্রশাসনের দেখা উচিত।”
রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় বিজেপির সভায় মঞ্চ ভাঙার অভিযোগ নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। দিলীপের দাবি, “মঞ্চ ভাঙেনি। তৃণমূলের প্রশাসন আমাদের কোথাও অনুষ্ঠান করার জন্য হল দিতে চায় না। তাই জলাজমির ধারে মঞ্চ তৈরি করে সভা হচ্ছিল। সেই কারণেই একটা অংশ বসে যায়।”
বাদুড়িয়ায় বিজেপি কর্মীকে হুমকির অভিযোগ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এসআইআরকে কেন্দ্র করে দিকে দিকে সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীরা হুমকির মুখে। তৃণমূলের গুন্ডাদের সামনে প্রশাসন চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশ দিয়ে সমাজবিরোধীদের প্রোটেকশন দেওয়া হচ্ছে। তাই বাংলায় এখন গণতন্ত্র নেই।”