Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটলEPL: নায়ক ওকাফর! ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৪৫ বছরের অভিশাপ মুছল লিডস, রক্ষণের ভুলে ডুবল ম্যান ইউAsha Bhosle: 'এত ভালবাসার সবটাই তোমার...,' ঠাকুমার স্মৃতি আঁকড়ে আবেগঘন পোস্ট নাতনি জানাইয়ের

কমিশনের ৫ নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি কেন? নন্দিনী চক্রবর্তীকে তলব, জমা দিতে হবে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট

‘ভূতুড়ে ভোটার’ বিতর্কে কড়া নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে তলব করে মঙ্গলবারের মধ্যে এফআইআর ও কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ।

কমিশনের ৫ নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি কেন? নন্দিনী চক্রবর্তীকে তলব, জমা দিতে হবে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট

ছবি: দ্য ওয়াল

অন্বেষা বিশ্বাস

শেষ আপডেট: 15 February 2026 12:28

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘ভূতুড়ে ভোটার’ বিতর্কে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল দেশের নির্বাচন কমিশন। গত বছরের অগস্টে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-কে সাসপেন্ড করা হলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের হয়নি। এই বিলম্ব নিয়ে একাধিকবার নবান্নকে সতর্ক করেছিল Election Commission of India। তবু নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় এবার কড়া সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ।

সূত্রের খবর, শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দিল্লিতে তলব করে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তার কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। কমিশন এই বৈঠকে জানায়, এর আগে পাঁচ দফা নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি। কমিশনের মতে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়ায় বারবার আইনশৃঙ্খলার সমস্যা দেখা দিচ্ছে এবং প্রশাসনের সক্রিয়তা সেই তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে কি না, সে বিষয়ে মুখ্যসচিবের কাছ থেকে স্পষ্ট আশ্বাসও চেয়েছে কমিশন।

এর পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও সুমিত্র প্রতীম প্রধানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। কমিশনের অনুমতি ছাড়াই ‘সার’ চলাকালীন তিনি ১১ জন অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ। প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁকে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হলেও, সেই নির্দেশও এখনও কার্যকর হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে বিএলও, ইআরও এবং এইআরওদের প্রস্তাবিত সাম্মানিক দ্রুত বরাদ্দ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

যদিও এই বৈঠক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। তবে শনিবার সকালে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ‘স্বনির্ভর বাংলা’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেন। সূত্রের দাবি, সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বার্তা পৌঁছে দেন—‘সার’ সংক্রান্ত যে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে, তা মেনেই কাজ করতে হবে।

এদিকে শনিবার রাজ্যে ‘সার’-এর শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। তার আগের দিন ভার্চুয়াল বৈঠকে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক, ইআরও এবং এইআরওদের সতর্ক করে বলেন, কোনও বিদেশি বা অযোগ্য ভোটারের নাম যেন চূড়ান্ত তালিকায় না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও স্পষ্ট জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দায়িত্ব ইআরও ও এইআরওদের উপরেই রয়েছে। অযোগ্য বা অবৈধ ভোটারদের চিহ্নিত করে তাঁদের কাছে পাঠানো হবে, এবং তাঁরা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে কমিশনের নির্দেশিকা মেনে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করবেন। যদি কোনও অযোগ্য ভোটারের নাম তালিকায় থেকে যায়, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখনও পর্যন্ত শুনানি শেষ হলেও প্রায় ৫০ লক্ষ নথি আপলোড ও যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে। এরপর হবে সুপার স্ক্রুটিনি বা বিশেষ যাচাই। এই প্রক্রিয়া শেষ না হলে চূড়ান্তভাবে কতজন অযোগ্য ভোটার বাদ পড়বেন, তা স্পষ্ট হবে না। আপাতত ১ লক্ষ ৬৩ হাজার অযোগ্য ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জেলা অনুযায়ী অনুপস্থিত ভোটারদের তালিকায় উত্তর ২৪ পরগনা শীর্ষে। শনিবার দুপুর ২টো পর্যন্ত সেখানে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই সংখ্যা ৪৬ হাজার, দক্ষিণ কলকাতায় ২২ হাজার, উত্তর কলকাতায় ২ হাজার এবং কালিম্পংয়ে ৪৪০ জন ভোটার শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।


```