রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে দ্রুত স্বশাসিত দফতর হিসেবে ঘোষণা করার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। এই বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন চিঠি দিল রাজ্যের মুখ্যসচিবকে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 July 2025 18:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে (State Chief Election Officer Office) দ্রুত স্বশাসিত দফতর হিসেবে ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে (CS Manoj Pant)। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সেই চিঠি এসে পৌঁছেছে নবান্নে (Nabanna)।
এই নির্দেশে স্পষ্ট হল, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর আর রাজ্যের অধীনে থাকবে না। এতদিন এই দফতর সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের অধীনে পরিচালিত হত। কমিশনের বক্তব্য, প্রতিটি রাজ্যের এই বিভাগ স্বাধীন ভাবে পরিচালিত হয়। তাই বাংলার ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন চাইছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক রাজ্যের উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল না হোন। তাই সেই দফতরকে সতন্ত্র করতেই এই পদক্ষেপ। এই নির্দেশ কার্যকর হলে স্বাধীনভাবে কর্মী নিয়োগের অধিকারও থাকবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের হাতেই।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, আধার, ভোটার আইডি, রেশন কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। ফলে এইসব নথি ভোটার তালিকায় নাম থাকার জন্য বাধ্যতামূলক প্রমাণ হতে পারে না। কমিশনের বক্তব্য, দেশের ভোটার তালিকায় নাম থাকার ন্যূনতম যোগ্যতা হচ্ছে তাঁকে ভারতের নাগরিক হতে হবে। যে কারণে কমিশনের কর্তব্য ও দায়িত্ব হচ্ছে, সেই শর্ত পূরণ হচ্ছে কিনা তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার করা।
এদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু নাম ছাঁটাই করা হচ্ছে। এই অভিযোগের জবাবে কমিশন আদালতকে জানিয়েছে, ভোটার রেজিস্ট্রেশন অফিসার যখন দেখছেন কোনও ব্যক্তির নাম তালিকা থাকার কোনও যোগ্যতা নেই, তখনই তাঁর নাম বাদ যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বৈষম্যের কোনও কারণ ঘটছে না।
তৃণমূল সহ অন্যান্য বিরোধী দলের অবশ্য অভিযোগ, ঘুরপথে এনআরসির চেষ্টা হচ্ছে। বেছে বেছে বিরোধী ভোটারদের এবং সংখ্যালঘুদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্যই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।